Madan Mitra
Bengal liberty desk, 24 মে, কলকাতা :
রাজ্য রাজনীতিতে যখন ঘাসফুল শিবিরের সময়টা বেশ কঠিন, ঠিক তখনই নিজের পুরনো এবং বিশ্বস্ত সৈনিকের ওপর বড় বাজি ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Madan Mitra)। রবিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে দমদম লোকসভা সাংগঠনিক জেলার নতুন সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস।

কেন মদন মিত্রই মমতার সেরা পছন্দ? Madan Mitra
তৃণমূলের অন্দরে যখন অনেক হেভিওয়েট নেতা ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বা দলবদল করছেন, তখন মদন মিত্রের ওপর ভরসা রাখার পেছনে কয়েকটি জোরালো কারণ দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে চারপাশের গেরুয়া ঝড়ের মাঝেও কামারহাটি কেন্দ্রটি নিজের দখলে রাখতে পেরেছেন মদন মিত্র। উত্তর ২৪ পরগনায় যখন বিজেপির জয়জয়কার, তখন মদনের এই জয় প্রমাণ করেছে তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা।

দুর্দিনেও দলনেত্রীর পাশ ছাড়েননি মদন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরনো দিনের ছবি শেয়ার করে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, তিনি মমতার লড়াইয়ের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী।
মন্ত্রিত্ব না থাকলেও হাসিমুখে সংগঠন সামলেছেন তিনি। নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে, যা এই মুহূর্তে দলের জন্য সবথেকে জরুরি।
দমদমকে আলাদা করার কৌশল:
এতদিন ‘বারাকপুর-দমদম’ মিলিয়ে একটিই সাংগঠনিক জেলা ছিল। কিন্তু এবার কৌশলে দমদমকে আলাদা জেলা করা হলো। বিজেপির ধাঁচেই কি তৃণমূলও প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্র ভিত্তিক ৪২টি জেলা গড়তে চাইছে? এই জল্পনা এখন তুঙ্গে। উনত্রিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে নতুন করে অক্সিজেন দিতেই এই ‘মদন কার্ড’ খেললেন নেত্রী।
শুধু মূল দল নয়, রদবদল হয়েছে যুব সংগঠনেও। দক্ষিণ কলকাতা যুব তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্রীদীপ দাসকে। দলনেত্রী যে এখন থেকে নতুন ও পুরনো শক্তির মিশেলে দলকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন, এই রদবদল তারই ইঙ্গিত।

