Baduria
Bengal Liberty, ২৮ মে :
উপরে সবুজ পাটগাছের সারি, আর তার নীচে লুকিয়ে কোটি টাকার পাহাড় (Baduria)। যে কোনও সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার এই ঘটনা। তৃণমূলের পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের পাটখেত খুঁড়তেই একের পর এক বেরিয়ে আসে টাকাভর্তি ট্রলি ব্যাগ। সেই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান তদন্তকারীরাও। রাতভর গোনার পর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। এর আগেই গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আর গ্রামের মানুষের চক্ষু এখন চড়কগাছ না পাটগাছ হয়ে দাঁড়িয়েছে (Baduria)।

পাটখেত খুঁড়তেই মিলল টাকার পাহাড় (Baduria)
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার একটি হোটেল থেকে বাদুড়িয়ার তৃণমূল পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই সূত্র ধরেই বুধবার বাদুড়িয়ার তৃণমূল কার্যালয়ের পাশের একটি পাটখেতে অভিযান চালায় পুলিশ। তদন্তকারীরা মাটি খুঁড়তেই উদ্ধার হয় চারটি ট্রলি ব্যাগ ও একটি বস্তা ভর্তি নগদ টাকা। বিপুল পরিমাণ নোট গোনার জন্য শেষপর্যন্ত মেশিনের সাহায্য নিতে হয়। একবার নয়, মোট চারবার টাকা গোনার পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই দাবি করেছেন, এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কীভাবে পাটখেতের মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, তা ভেবেই তাঁরা স্তম্ভিত।

আবাস দুর্নীতি থেকে তোলাবাজি-বাড়ছে অভিযোগের তালিকা (Baduria)
শুধু নগদ টাকা উদ্ধারই নয়, তদন্তে উঠে আসছে আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, পুরপ্রধানকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছিল। পাশাপাশি বাদুড়িয়া পুরসভার অধীনে থাকা একটি পরিত্যক্ত কম্পিউটার সেন্টার থেকে উদ্ধার হয় প্রায় চার হাজার সরকারি ত্রিপল। দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে আবাস যোজনার টাকা তছরুপ, কাটমানি আদায় এবং তোলাবাজির মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদের সঙ্গে বৃহত্তর আর্থিক দুর্নীতির যোগ থাকতে পারে।
বর্তমানে ধৃত পুরপ্রধান ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, কারা এই টাকার লেনদেনের সঙ্গে জড়িত এবং এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদুড়িয়ার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।


