Raniganj Diesel Smuggling
Bengal Liberty, ৩০ মে :
রাতের অন্ধকারে চলা কথিত ডিজেল পাচার চক্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন এলাকাবাসী (Raniganj Diesel Smuggling)। অবশেষে স্থানীয়দের তৎপরতায় সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। রানিগঞ্জের অমৃতনগর কোলিয়ারি এলাকায় এক তৃণমূল নেতার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা একাধিক গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুতের অভিযোগ উঠেছে। শুধু ডিজেলই নয়, পঞ্চায়েতের ত্রাণ তহবিলের জন্য বরাদ্দ ত্রিপলও সেখানে মজুত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ এবং পৃথকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেছে ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল) কর্তৃপক্ষ (Raniganj Diesel Smuggling)।

স্থানীয়দের অভিযোগে ফাঁস কথিত ডিজেল মজুতের কারবার (Raniganj Diesel Smuggling)
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির উপ-সভাপতি তথা ইসিএলের তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সাবির মিয়া ওরফে ‘লাদেন’-এর সঙ্গে যুক্ত একটি গোডাউনে দীর্ঘদিন ধরে ডিজেল মজুত করে রাখা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। শনিবার এলাকাবাসীরা সেই ডিজেল পাচারের চেষ্টা আটকানোর দাবি করেন।অভিযোগ, অমৃতনগর কোলিয়ারি এলাকার একাধিক ইসিএল আবাসন দখল করে একটি ক্লাবের আড়ালে এই বেআইনি কারবার চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তের সঙ্গে যুক্ত মোট তিনটি ঘরের মধ্যে দু’টিতে ডিজেল মজুত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তবে একটি ঘর এখনও খোলা হয়নি। ফলে ওই ঘরে কী রয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় জল্পনা তুঙ্গে। এছাড়াও, পঞ্চায়েতের ত্রাণের কাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ত্রিপলও ওই গোডাউনগুলিতে মজুত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

তদন্তে পুলিশ-ইসিএল, বাড়ছে প্রশ্ন (Raniganj Diesel Smuggling)
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের রানিগঞ্জ থানার পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কোথা থেকে এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল আনা হয়েছে, কী উদ্দেশ্যে তা মজুত করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।অন্যদিকে, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল) কর্তৃপক্ষও পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। কোলিয়ারি এলাকার সম্পত্তি দখল, আবাসনের অপব্যবহার এবং বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চলছে বলে সূত্রের খবর।
এলাকাবাসীর আরও দাবি, অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে অতীতেও ডাকাতি, বোমাবাজি, মারধর, লুটপাট এবং শ্রমিকদের কাছ থেকে জোর করে তোলা আদায়ের মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের কোনওটিই এখনও আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রমাণিত নয়। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ইসিএলের কিছু আধিকারিকের মদতেই এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। সেই কারণেই তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, অমীমাংসিত ঘরটি খুলে কী উদ্ধার হয় এবং তদন্তে আর কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রানিগঞ্জের মানুষ।


