Arup biswas
Bengal Liberty:
মেসিকাণ্ডে ফের হাজিরা এড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup biswas)। এ নিয়ে পরপর তিনবার বিধাননগর দক্ষিণ থানার তলব এড়ালেন তিনি। এর আগে গত ৫ এবং ৮ জুন তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। প্রতিবারই শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়েছেন অরূপ। এরপর গত শনিবার পুলিশ তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তৃতীয় নোটিস পাঠায়, যার মেয়াদ আজই শেষ হচ্ছে। গত বুধবার এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখেও পড়তে হয়েছিল প্রাক্তন মন্ত্রীকে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, ‘মেসি ইভেন্ট’ কেলেঙ্কারির পর থেকেই প্রাক্তন মন্ত্রী দুবাইয়ে পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এবং দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না মেলায় তদন্তকারীরা তাঁকে ‘পলাতক’ বলেই অনুমান করছিলেন।

অরূপের বিরুদ্ধে শতদ্রুর এফআইআর (FIR)
গত বছর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত (Arup biswas)। ৩৭ দিন জেল খাটার পর জামিনে মুক্ত হন তিনি। জেল থেকে বেরিয়েই অরূপ বিশ্বাস এবং জুঁই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন শতদ্রু।

তদন্ত চলাকালীন শতদ্রুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, যেখানে অনুষ্ঠানটির টিকিট বিক্রি বাবদ সংগ্রহ হয়েছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক সত্য ফাঁস করেন আয়োজক শতদ্রু দত্ত। প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেল, টিকিট আত্মসাৎ, জোরজুলুম এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন তিনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) মোট পাঁচটি ধারায় এফআইআর রুজু করা হয়েছে:
* ধারা ৩(৫): যৌথ অভিপ্রায় (Common Intention)
* ধারা ৩০৮(২): তোলাবাজি (Extortion)
* ধারা ৩১৮(৪): প্রতারণা (Cheating)
* ধারা ৩৫১(২): অপরাধমূলক হুমকি (Criminal Intimidation)
* ধারা ৬১(২): অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (Criminal Conspiracy)

“অরূপ বিশ্বাস কি মেসির বাল্যবন্ধু?” প্রশ্ন আদালতের
গত বুধবার এই মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন প্রাক্তন মন্ত্রী। শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, “অরূপ বিশ্বাস কি মেসির বাল্যবন্ধু? তিনি ওই অনুষ্ঠানের এত গভীরে ঢুকলেন কেন?” একই সঙ্গে দেশের অন্য তিনটি শহরে মেসির অনুষ্ঠান কোনো ঝামেলা ছাড়াই সুন্দরভাবে সম্পন্ন হলেও, কলকাতায় কেন এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা নিয়েও বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আদালত।
আদালতের ভর্ৎসনার পর গত শনিবার বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ অরূপ বিশ্বাসকে হাজিরার শেষ সুযোগ দিলেও তা এড়িয়ে গেলেন এই তৃণমূল নেতা। এবার পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


