Netherlands vs Japan
Bengal Liberty, ১৫ জুন ২০২৬: রবিবার ডালাস স্টেডিয়ামে(Netherlands vs Japan) মুখোমুখি হয়েছিল চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দুটি দল। একদিকে ছিল তরুণদের গতি ও উদ্যম, অন্যদিকে অভিজ্ঞতা আর বড় ম্যাচ জেতার ক্ষমতা। টানটান উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র হলো। নেদারল্যান্ডস বনাম জাপানের এই নাটকীয় ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
গ্যালারি জুড়ে ছিল নীল-সাদা আর কমলা রঙের দুর্দান্ত যুগলবন্দি। তবে ম্যাচ শেষে ফুটবলপ্রেমীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন জাপানি দর্শকেরা।
প্রথম অর্ধে ম্যাড়মেড়ে খেলা(Netherlands vs Japan)
ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল অত্যন্ত মন্থর গতিতে। দুই দলই প্রতিপক্ষের শক্তি বুঝে ‘ধীরে চলো’ নীতিতে বিশ্বাসী ছিল। ফলে প্রথমার্ধে তেমন কোনো গোল বা আক্রমণ চোখে পড়েনি। আসল খেলার রোমাঞ্চ শুরু হয় বিরতির পর।


দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝড়(Netherlands vs Japan)
বিরতির পর দুই দলই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পশরা সাজায়। আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়ে ম্যাচের ৫১ মিনিটে ডাচদের হয়ে প্রথম গোল করেন অধিনায়ক ভি. ভ্যান ডিক (Virgil van Dijk)। গোল হতেই গ্যালারি জুড়ে আছড়ে পড়ে কমলার ঢেউ।

তবে ডাচদের এই আনন্দ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৬ মিনিট। ৫৭ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলের সাহায্যে জাপানকে সমতায় (১-১) ফেরান কে. নাকামুরা। এরপর ম্যাচের ৬৪ মিনিটে ক্রিসেনসিও সামারভিলের গোলে ফের এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর যখন মনে হচ্ছিল পুরো ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়বেন ভ্যান ডিকরা, ঠিক তখনই ৮৯ মিনিটে দাইচি কামাদার গোলে ফের সমতায় ফেরে জাপান। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলেই শেষ হয় এই স্মরণীয় ম্যাচ। পুরো ম্যাচ জুড়েই জাপানি অ্যানিমের মতোই বারবার খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখল ‘ব্লু সামুরাই’রা।
গ্রুপ-ই এর সমীকরণ(Netherlands vs Japan)
এই ড্রয়ের পর গ্রুপ ‘ই’-এর শীর্ষে রয়েছে সুইডেন এবং দ্বিতীয় স্থানে আছে জাপান। তবে গ্রুপের সমীকরণ যেভাবে নাটকীয় মোড় নিয়েছে, তাতে শেষ পর্যন্ত কোন দুটি দল নকআউটে প্রবেশ করবে—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।


ম্যাচ শেষেও হৃদয় জিতল জাপান(Netherlands vs Japan)
দেশ, শহর কিংবা স্টেডিয়াম—নিজের চারপাশ পরিষ্কার রাখা যে নাগরিক দায়িত্ব, ম্যাচ শেষে তা আরও একবার প্রমাণ করলেন জাপানি সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই ডালাসের পুরো গ্যালারি ও স্ট্যান্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তবেই স্টেডিয়াম ছাড়েন তারা। এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে এমন নজির গড়ে বিশ্ববাসীকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিল জাপান। শুধু ম্যাচ উপভোগ করাই নয়, দর্শক হিসেবে যে একটি বড় দায়িত্ব থাকে, তা যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল তারা।
আরো পড়ুন:- NCPI: হাওড়ায় এনসিপিআই রাজ্য কার্যালয়ের সামনে কড়া নিরাপত্তা: শান্তি বজায় রাখার আহ্বান


