CM Suvendu adhikari
Bengal Liberty:
দীর্ঘদিনের সন্ত্রাস, তোলাবাজি, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এবার কড়া বার্তা বিধানসভা থেকে (CM Suvendu Adhikari)। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করতে সোমবার পাশ হল বহুচর্চিত ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল’। যা গুন্ডাদমন বিল নামে পরিচিত। আর এই বিল পাশ ঘিরে বিধানসভায় শুরু হয় তুমুল রাজনৈতিক তরজা এবং হট্টগোল।

ধ্বনিভোটে পাশ গুন্ডাদমন বিল CM Suvendu Adhikari
সোমবার বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’ পেশ করেন। ধ্বনিভোটে বিলটি পাশ হয়। বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ১৭৬টি, বিপক্ষে ৪১টি এবং ২০ জন বিধায়ক ভোটদানে বিরত থাকেন। ভোটাভুটিতে অংশ নেয়নি কালীঘাট তৃণমূল শিবিরও। তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ জন নিরাপত্তা ও সমাজ বিরোধী কার্যকলাপ বিল ২০২৬” এবং ” পশ্চিমবঙ্গ জনরক্ষা সংশোধনী বিল ২০২৬” এই বিলের প্রয়োগ ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্য করেছে ভিন্ন নামে। মুম্বাই পুলিশ ১৯৫১ , দিল্লি পুলিশ ১৯৭৮, উত্তরপ্রদেশ কন্ট্রোল অফ গুন্ডা ১৯৭০, কেরালা ২০০৭, কর্ণাটক পুলিশ act ১৯৬৩, মধ্যপ্রদেশ রাজ্য সুরক্ষা নীতি ১৯৯০, ঝাড়খন্ড কন্ট্রোল অফ ক্রাইমস ২০০২। সোমবার, পশ্চিমবঙ্গে বিল পেশ করা হল।

বিলের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ বলেন, ‘গরিবের টাকা যারা শোষণের চেষ্টা করবেন, তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্যই এই বিল অত্যন্ত দরকার। সরকারি সম্পত্তির দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে না আর। আমরা এমনই ব্যবস্থা করছি। এই বিলের মাধ্যমে পুলিশকে টেবিলের তলা থেকে বের করে গুন্ডাদের টেবিলের তলায় ঢোকানোর সময় এসেছে।’
বিজেপি সরকারের নতুন আইন
বিলের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, ‘ দেশের মধ্যে প্রথম সিএএ বিরোধী মিছিল হয়েছিল বাংলায়। সিঁথির মোড় থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত মিছিল করে বাংলায় আগুনটা লাগিয়ে দিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর থেকে গোটা বাংলা জ্বলল। চাঁচলের সামসিতে রেল লাইন উপড়ে দেওয়া হয়েছিল। রেলে কি শুধু হিন্দুরা চড়ে, মুসলমানরা চড়ে না? বেলডাঙায় স্টেশন জ্বলেছে, ৫০০ হকারের দোকান পুড়েছে। নিমতিতাতে ৬৮ দোকান লুট, রেজিনগর স্টেশনে আগুন।’
অন্যদিকে, বিলের বিরোধিতায় বক্তব্য রাখতে উঠলেও প্রবল হট্টগোলের মধ্যে নিজের বক্তব্য শেষ করতে পারেননি তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। পরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বিলের পরিবর্তে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি সংক্রান্ত বিষয় তুলে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।


