OBC reservation bill
Bengal Liberty : রাজ্যে ওবিসি শংসাপত্র যাচাইয়ের নতুন প্রক্রিয়া ঘিরে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাই কোর্টে (OBC reservation bill)। মামলাকারীর দাবি, অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই সরকার নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সোমবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে প্রথমে সিপিএমের দায়ের করা মামলার শুনানি হয়। সেই সময় আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ‘”ওই পুরো প্রক্রিয়াই আমরা বাতিল করেছি। এখন নতুন করে ওবিসি অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।” আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পরই ওবিসি শংসাপত্র যাচাইয়ের নতুন বিজ্ঞপ্তি ঘিরে আইনি বিতর্ক আরও জোরালো হয়ে উঠেছে (OBC reservation bill)।

নতুন বিজ্ঞপ্তি ঘিরে ফের আদালতে বিতর্ক (OBC reservation bill)
সোমবার শুনানিতে সিপিএমের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, এই মামলার মূল বিতর্ক ওবিসি শংসাপত্রের যাচাই পদ্ধতি নিয়ে। তাই গোটা ওবিসি অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে না ফেলে শুধুমাত্র যাচাই সংক্রান্ত বিষয়েই আদালতের নজর দেওয়া উচিত। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর মামলাটি দু’সপ্তাহ পরে পুনরায় শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। এর কিছুক্ষণ পরই একই বিষয় নিয়ে আর এক নতুন আবেদনকারী রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন। সেই সময় আদালত জানতে চায়, তিনি ঠিক কোন পক্ষের হয়ে সওয়াল করছেন। পাশাপাশি বিচারপতিরা স্মরণ করিয়ে দেন, সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের আগের রায় বহাল রেখেছে, ফলে সেই রায়ের প্রেক্ষিতে পুরনো মামলাগুলির আর বিশেষ তাৎপর্য নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওই রায়ের ভিত্তিতেই রাজ্য সরকার নতুন পদক্ষেপ করেছে।

জরুরি শুনানির আর্জি (OBC reservation bill)
নতুন বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়ে আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে আবেদনকারীর আইনজীবী দাবি করেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের মতামত ছাড়া এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। অথচ রাজ্য সরকার কমিশনের সঙ্গে কোনও পরামর্শ না করেই নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।” তাঁর অভিযোগ, কমিশনের মতামত উপেক্ষা করে সরকার যে পদক্ষেপ করেছে, তা ‘কালারেবল এক্সারসাইজ় অফ পাওয়ার’, অর্থাৎ ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। মামলাটি মঙ্গলবার শুনানির জন্য রাখতে চাইলেও আবেদনকারী পক্ষ জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানায়। তাঁদের যুক্তি, ‘সোমবারই বিধানসভায় সংশ্লিষ্ট বিলটি পেশ করা হচ্ছে। বিলটি পাশ হয়ে গেলে এই মামলা কার্যত অর্থহীন হয়ে যাবে। এমনকি, রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা ‘বিশেষ অনুমতি আবেদন’ প্রত্যাহার করে নিতে পারে।’ আবেদনকারী পক্ষের দাবি, তাই বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার আগেই আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।



