Suvendu Adhikari
Bengal Liberty:
মঙ্গলবার হুল দিবস উপলক্ষে মুকুটমণিপুরে আয়োজিত জনসভা থেকে আদিবাসী, বিশেষ করে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি এসসি, এসটি ও অন্যান্য সংরক্ষণভুক্ত সম্প্রদায়ের ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র (কাস্ট সার্টিফিকেট) রোধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেন (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি প্রাক্তন সরকারের সমালোচনা করে আদিবাসী উন্নয়ন নিয়ে নিজেদের সরকারের অবস্থানও তুলে ধরেন।
সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলেই পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর উদ্ভাবিত অলচিকি (Ol Chiki) লিপি স্বীকৃতি পেয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, সাঁওতাল সম্প্রদায় থেকে দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর নির্বাচিত হওয়া গোটা দেশের গর্বের বিষয়। এছাড়াও তিনি বলেন, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির মধ্যে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেব সাই এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিও আদিবাসী সমাজ থেকে উঠে এসেছেন।

আদিবাসী উন্নয়নে একাধিক ঘোষণা Suvendu Adhikari
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার কেন্দ্রের আদিবাসী উন্নয়নমূলক একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দিয়েছিল। তবে বর্তমানে কেন্দ্রের বিভিন্ন জনজাতি উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে রাজ্য যুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, আদিবাসী এলাকায় শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, ছাত্রাবাস সংস্কার, ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরি এবং জীবিকা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে লোধা-সহ প্রাচীন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসূচি আগামী আগস্ট মাস থেকে চালু করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
এছাড়া তিনি ঘোষণা করেন—
* আদিবাসী ভাতায় অতিরিক্ত ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হবে।
* প্রায় পাঁচ লক্ষ আদিবাসী মহিলা অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের আওতায় এসেছেন।
* আদিবাসী এলাকার উন্নয়নের জন্য ৩৫০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে।
ভুয়ো সার্টিফিকেটের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান
সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো এসসি ও এসটি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “প্রত্যেকটি ভুয়ো সার্টিফিকেটের তদন্ত চলছে। যারা ভুয়ো সার্টিফিকেট তৈরি করেছে এবং যারা তা ব্যবহার করেছে, উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি স্পষ্ট জানান, বিজেপি সরকার ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সোমবার রাজ্য বিধানসভায় ওবিসি-সহ অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ সংক্রান্ত দুটি সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। বিলের পক্ষে ১৮৬টি এবং বিপক্ষে ১৭টি ভোট পড়ে। এই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ রাখতে ভুয়ো সার্টিফিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
প্রাক্তন সরকারকে আক্রমণ
জঙ্গলমহলের উন্নয়ন নিয়েও পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, জঙ্গলমহল-সহ ৭৫টি ব্লকে আগের সরকার মাত্র ৬ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছিল। বর্তমান সরকার আদিবাসী এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনজাতি সমাজের কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।


