Ratna Debnath
Bengal Liberty:
স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা বিতর্কে মুখ খুললেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়িকা রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। বিধায়িকা রত্না দেবনাথের স্বামী শেখররঞ্জন দেবনাথকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গঙ্গাতীরবর্তী পানিহাটির ঐতিহ্যবাহী শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দিরের প্রণামী বাক্সের অর্থ তাঁর বাড়িতে পাঠানোর হয়। যদিও এ বিষয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
তবে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মুখ খুলেছেন বিধায়িকা রত্না দেবনাথ, যিনি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা হিসেবেও পরিচিত। তিনি বলেন, মেয়ের বিচারের লড়াই করতে গিয়ে রাজনীতির কদর্য দিক তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে বারবার অপপ্রচার এবং মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভিডিও বার্তায় রত্না দেবনাথ বলেন, তাঁদের আর কোনও সন্তান নেই, তাই অর্থলোভের প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর দাবি, অর্থের প্রতি লোভ থাকলে তিনি কখনও বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিতেন না। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে বিপুল অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল মমতার তরফে, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি আরও বলেন, অর্থই যদি একমাত্র লক্ষ্য হতো, তবে মেয়েকে চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করতেন না। একইসঙ্গে পানিহাটির রাজনীতিতে অর্থ উপার্জনের সংস্কৃতি নিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষও করেন তিনি।

মন্দির-সংক্রান্ত বিতর্ক প্রসঙ্গে বিধায়িকার বক্তব্য, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল এলাকার বিভিন্ন মন্দিরকে নিয়ে একটি ট্রাস্ট গঠন করা, যাতে প্রণামীর অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং মন্দিরগুলির উন্নয়ন সঠিকভাবে করা যায়। এর বাইরে কোনও বিষয়ে অবগত নন বলেও দাবী জানিয়েছেন বিধায়িকা। অন্যদিকে, যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দিরকে ঘিরে এই বিতর্কের সূত্রপাত, মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির ফল। তাঁদের পূর্বপুরুষদের হাত ধরে পরিচালিত ওই মন্দিরে বর্তমানে কোনও সমস্যা নেই এবং বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ সামনে আসেনি। স্থানীয় বিজেপির একাংশের মতে, ভাইরাল হওয়া অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এখন বিধায়িকার প্রকাশ্য ব্যাখ্যার পর এই বিতর্ক কতটা প্রশমিত হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


