Fifa World Cup
Bengal Liberty
চলতি ফিফা বিশ্বকাপের শুরু(Fifa World Cup ) থেকেই ইউরোপীয় ফুটবলের দুই শক্তিশালী দল জার্মানি ও পর্তুগালকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে তুমুল উন্মাদনা লক্ষ করা গেছে। একদিকে চারবারের বিশ্বকাপজয়ী দল জার্মানি—যারা ২০১৪ সালের পর থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার নজির গড়েছে। অন্যদিকে পর্তুগাল—যাদের কেন্দ্রবিন্দুতে শুধুই একটি নাম, ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। নিজের শেষ বিশ্বকাপে তাঁর হাত ধরেই দল ট্রফি জিতবে, এমনই প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের।
একই ভুল বারবার(Fifa World Cup)
দুই দলই প্রতিযোগিতার শুরুতে হট ফেভারিট ছিল। অতীত ব্যর্থতা ভুলে নতুন উন্মাদনায় চলতি বিশ্বকাপে সেরার সেরা হতে মাঠে নেমেছিল তারা। কিন্তু গ্রুপ পর্বে সফল হলেও কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর আগেই দুই তারকাসমৃদ্ধ দল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল। আর এই চরম ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করলেন দুই দলের প্রধান কোচ—রবার্তো মার্টিনেজ ও জুলিয়ান নাগেলসম্যান।

জুলিয়ান নাগেলসম্যানের বিশ্বকাপ সফর(Fifa World Cup)
জার্মানি গ্রুপ পর্বে কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে রাজকীয়ভাবেই প্রতিযোগিতা শুরু করেছিল। কিন্তু পরের ম্যাচেই আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে ছন্দহীন ফুটবল খেলে ২-১ গোলে কষ্টার্জিত জয় পায় তারা। এরপর ইকুয়েডরের বিপক্ষে হারের মধ্য দিয়েই শুরু হয় জার্মানির পতন। অবশেষে নকআউটে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে টাই-ব্রেকারে লজ্জাজনক হারের মাধ্যমে তাদের বিদায়ঘণ্টা বাজে।

সেখানেই শেষ হলো নাগেলসম্যান অধ্যায়। ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে শেষ পর্যন্ত কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হলো তাঁকে। এই বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক প্রশ্নও উঠেছে। ৪০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ম্যানুয়েল ন্যুয়ারকে কেন আবার দলে ফিরিয়ে আনা হলো? দলের তরুণদের ওপর কেন ভরসা করা গেল না? এই নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল সমর্থক তীব্র আলোচনা ও বিশ্লেষণে ব্যস্ত।
রবার্তো মার্টিনেজের বেনজির ব্যর্থতা(Fifa World Cup)
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের ‘সোনালি প্রজন্ম’-এর দায়িত্ব নিয়েছিলেন রবার্তো মার্টিনেজ। সেই বিশ্বকাপে বেলজিয়াম তৃতীয় স্থান অধিকার করে। ইংল্যান্ড ও ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলকে সহজেই পরাজিত করেছিল লুকাকুরা। কিন্তু তারপরই দলে একাধিক রদবদল এবং খেলোয়াড়দের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে পরবর্তী সব প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত ব্যর্থ হয় বেলজিয়াম।
কথায় বলে, ‘মানুষ একই ভুল বারবার করে না’। কিন্তু রবার্তো মার্টিনেজ বেলজিয়ামের সঙ্গে যে ভুল করেছিলেন, সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করলেন তারকাসমৃদ্ধ পর্তুগালের সঙ্গেও।

খেলোয়াড় নির্বাচনে ভুল(Fifa World Cup)
ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর মতো একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়কে তিনি সঠিক উপায়ে ব্যবহার করতে পারলেন না। এরই সঙ্গে নুনো মেন্ডেজ, ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও বার্নার্দো সিলভার মতো বিশ্বমানের ফুটবলারদের একটি ছকবাঁধা ফর্মুলার মধ্যে আটকে রাখলেন। যার ফলে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ড্র, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে রাজকীয় জয়, কলম্বিয়ার কাছে আটকে যাওয়া, নকআউট পর্বে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে জয় এবং সবশেষে স্পেনের বিরুদ্ধে ছন্দহীন ফুটবল—কোনো ম্যাচেই দলগত ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি।

ছোট বাচ্চাদের হাতে দামি খেলনা থাকলেই হয় না, সেই খেলনার সঠিক ব্যবহারও জানতে হয়। মাঠের কৌশলে সেই সঠিক প্রয়োগের জায়গাতেই চূড়ান্ত ব্যর্থতার নজির পেশ করেছেন রবার্তো মার্টিনেজ। ব্যর্থতার দায় নিয়ে তিনি সরে গেলেও সমর্থকেরা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
ফুটবলের দুই মহাশক্তির এই পতনের পর আবারও একটি বিষয় প্রমাণিত হলো—ফুটবলকে কেবল নামের জোরে নয়, রণকৌশল ও সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে সম্মান জানাতে হয়। তা না করতে পারলে জার্মানি আর পর্তুগালের মতোই পরিণতি ভোগ করতে হয়।

