Mamata vs Suvendu
Bengal Liberty : ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব নিজের কাছেই রেখেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata vs Suvendu)। তিনি বরাবরই সর্বরোগহর ব্যবস্থা হিসেবে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল ব্যবস্থার ওকালতি করতেন। কিন্তু গ্রামীণ হাসপাতাল হোক বা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৃণমূলের রাজ্যে তাদের বেহাল অবস্থার কথা কারও অজানা নয়। হাসপাতালে রোগীর সাথে একই বেডে দেখা গিয়েছে ছাগল, কুকুর। এই ব্যবস্থারই বড়াই করতেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী? প্রতিবার ক্ষমতায় এসে কয়েকবার সারপ্রাইজ ভিজিট করে চমকে দিতেন। কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান কবে হয়েছে? বর্তমান বিজেপি সরকারের বিষয়টা খানিক আলাদা। তাঁরা কথা কম কাজ বেশি ফ্যাক্টরে বিশ্বাসী। তাই ক্ষমতায় এসেই চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতিতে মাঠে নেমে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Mamata vs Suvendu)।

মমতার সারপ্রাইজ (Mamata vs Suvendu)
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকার বড়াই করে বলত, তারা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থার অনেক উন্নতি করেছে। চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট মিটিয়ে দিয়েছে। জেলায় জেলায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল করতে বড় বড় বিল্ডিং তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতালে বেড ফ্রি হয়েছে। কিছু কিছ ওষুধ বিনামূল্যে হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে। পিপিপি মডেলের ডায়গনস্টিক কেন্দ্র থেকে বাজারদরের তুলনায় একটু কম খরচে ইউএসজি, সিটি স্ক্যান ইত্যাদি করা যাচ্ছে। নতুন কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজ চালু হয়েছে। তাহলে এরাজ্যে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংকটের সমাধান হল না কেন? কেন একই বেডে পশুর সাথে রাত কাটানোর উদাহরণ সামনে আসছে? মেঝেতে পড়ে থাকতে হয়েছে কেন রোগীদের? সারপ্রাইজ ভিজিটের নামে তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী কি শুধুই সারপ্রাইজ করেছেন সাধারণ মানুষকে?


বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ (Mamata Banerjee)
রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পরই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির দিকে নজর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি হাসপাতালের করুন দৃশ্য এবং সর্বোপরি মমতার গর্বের হাসপাতাল এসএসকেএমের করুন অবস্থা দেখে হতভম্ব হয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি একটি বৈঠক করে নির্দেশ দেন- হাসপাতালগুলিতে বেড সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড বাধ্যতামূলক। ওই বোর্ডে হাসপাতালের মোট বেড সংখ্যা, কতগুলি বেড খালি রয়েছে এবং কতজন রোগী ভর্তি রয়েছেন, সেই তথ্য রিয়েল টাইমে দেখাতে হবে। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে সমস্ত কর্মীর জন্য আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাসপাতালের ভিতরে কে কর্মরত এবং কে বহিরাগত, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। দালাল চক্র বন্ধ করতে হবে পুরোপুরি। মেডিক্যাল কলেজগুলিতেও নিরাপত্তা জোরদারের করে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এছাড়া, শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কলকাতার সব সরকারি হাসপাতালগুলিতে চালু করতে হবে সারপ্রাইজ ভিজিট। প্রয়োজনে আমিও সারপ্রাইজ ভিজিট করব। বিধায়কেরাও জেলায় জেলায় হাসপাতালে সারপ্রাইজ ভিজিট করবেন।’ তাঁর কথা মাফিক আজ, বৃহস্পতিবার সারপ্রাইজ ভিজিট করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাথে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও।

আরও পড়ুন :
BJP Candidate : বিজেপির হয়ে রাজ্যসভায় যাচ্ছেন সুখেন্দুশেখর-সুস্মিতা!

