Nato Summit 2026
Bengal Liberty
তুরস্কের আঙ্কারায় ৭-৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ন্যাটো(Nato Summit 2026) শীর্ষ সম্মেলন শেষ হতেই একাধিক উল্লেখযোগ্য বিষয় সামনে এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ফের উত্তপ্ত। একদিকে ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে ন্যাটো; অন্যদিকে, এই জোটের অন্যতম সদস্য স্পেনকে তীব্র নিশানা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো কি সত্যিই আগের মতো ঐক্যবদ্ধ রয়েছে?


ন্যাটোর সাম্প্রতিক বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সহায়তা, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান বজায় রাখার বিষয়ে সদস্য দেশগুলো নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো নিয়ে কয়েকটি দেশের আপত্তিও প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে স্পেনের অবস্থান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন রাষ্ট্রপতির অভিযোগ(Nato Summit 2026)
স্পেনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেনন্যাটো জোটের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুবিধা নিলেও নিজস্ব প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করছে না স্পেন।তাঁর দাবি, মিত্র দেশগুলোর উচিত জিডিপির (GDP) নির্ধারিত অংশ প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ করা।
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, স্পেন যদি দ্রুত নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে, তবে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও দেশটিকে ওয়াশিংটনের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।

স্পেনের পাল্টা বার্তা(Nato Summit 2026)
ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির জবাবে স্পেনের সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা ন্যাটোর সদস্য হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবেই পালন করছে। তবে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে মাদ্রিদের সমর্থন আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ন্যাটোর ভবিষ্যৎ(Nato Summit 2026)
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ ঐক্য, সদস্য দেশগুলোর আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং মার্কিন নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ ভূমিকা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই মতবিরোধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন কতটা গভীর হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে গোটা বিশ্বের।

