Argentina Semi Final
Bengal Liberty
ফিফা বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতা একদম(Argentina Semi Final) শেষ লগ্নে পৌঁছে গেছে। বিগত এক মাস ধরে ৪৮টি দল চমৎকার ও অসাধারণ লড়াইয়ের মাধ্যমে দর্শকদের অনেক চিরস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। কখনও ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্ডের লড়াই, কিংবা তিনটি আয়োজক দেশের নকআউটে কোয়ালিফাই করা, আবার শেষবারের মতো চোখের জলে মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও নেইমারের বিশ্বকাপের মঞ্চকে বিদায় জানানো ।

সবই ফুটবলপ্রেমীদের আবেগে ভাসিয়েছে। আবার আর্জেন্টিনার ত্রাতা লিওনেল মেসি যখনই দল সংকটে পড়েছে, তখনই সংকটমোচনের ভূমিকায় হাজির হয়েছেন এলএম১০ (LM10)। সব মিলিয়ে বিগত এক মাসে বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্ত ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে গেছে। এই সবের মাঝেই এবার সেমিফাইনালে শেষ চারের লড়াই। ৪৮টি দলের প্রতিযোগিতার পর ফ্রান্স বনাম স্পেন এবং আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের মহারণের জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে।
হরেকরকম প্রশ্নের মেলা(Argentina Semi Final)
পরপর দু’বার বিশ্বকাপ জিতবেন লিওনেল মেসি? আবারও কি কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স বাজিমাত করবে?
২০১০ সালের পর ফের বিশ্বকাপ ঘরে তুলবে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন, নাকি ১৯৬৬ সালের পর— দীর্ঘ ৬০ বছর পর ইংল্যান্ড বলবে, “ইটস ফাইনালি কামিং হোম”? এই সব নানা বিষয়কে কেন্দ্র করেই জমে উঠেছে শেষ চারের লড়াই; সেই সঙ্গে বাড়ছে কৌতূহল। তবে এর মধ্যেই বিতর্ক আর্জেন্টিনার অন্যতম সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আবার বিতর্ক চলছে? আসুন দেখে নেওয়া যাক।

ফের বিতর্কে আর্জেন্টিনা(Argentina Semi Final)
ফিফা বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বিতর্ক চলছে। কখনও বলা হচ্ছে, ফিফা ও রেফারি মিলে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচ জিততে সাহায্য করছে; আবার মিশর ম্যাচকে কেন্দ্র করেও এখনও চর্চা ও উত্তেজনা তুঙ্গে। এরই মধ্যে নতুন অভিযোগ উঠছে যে, আর্জেন্টিনা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম ১৫টি দলের কোনোটির সঙ্গেই ম্যাচ না খেলে সেমিফাইনালে প্রবেশ করেছে।

মেসিদের বিরল কীর্তি(Argentina Semi Final)
এমন বিরল কীর্তি বোধহয় শুধুমাত্র মেসির আর্জেন্টিনাই করতে পেরেছে। গ্রুপ পর্বে তারা আলজেরিয়া (র্যাঙ্ক ২৮), অস্ট্রিয়া (র্যাঙ্ক ২৪) এবং জর্ডান (র্যাঙ্ক ৬৩)-এর বিরুদ্ধে খেলেছে। নকআউট পর্বেও একই ছবি ধরা পড়েছে। বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটিয়ে রূপকথা তৈরি করা কেপ ভার্ডে দুরন্ত লড়াই দিলেও তাদের ফিফা র্যাঙ্কিং ৬৭। এরপর শেষ ষোলোতেও একই অবস্থা দেখা গেছে। মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অসাধারণ লড়াই করে হারের মুখ থেকে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে লা আলবিসেলেস্তেরা।
তারপর কোয়ার্টার ফাইনালে ১৯ নম্বর দল সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে চেনা ছন্দের আর্জেন্টিনাকে পাওয়া না গেলেও, ৩-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছেন মেসিরা।
সামনে ইংল্যান্ড(Argentina Semi Final)
এবারই প্রথমবারের মতো র্যাঙ্কিংয়ের চার নম্বরে থাকা শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে নামবে আর্জেন্টিনা।
আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন— যেখানে অন্য দলগুলোকে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম ১৫টি দলের বিরুদ্ধে খেলতে হয়েছে, সেখানে কেন আর্জেন্টিনাকে এতক্ষণ তেমন কোনো কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হয়নি?

যেমন— পর্তুগাল খেলেছে ক্রোয়েশিয়া ও স্পেনের বিরুদ্ধে, আবার ইংল্যান্ড খেলেছে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে। এই প্রশ্নকে ঘিরেই কি সেমিফাইনালের আগে বাড়তি চাপে রয়েছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা? নাকি ১৯৮৬ সালের মতোই ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে আর্জেন্টিনা? তা নিয়েই এখন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

