Humayun Kabir
Bengal Liberty : বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আইনি চাপ আরও বাড়ল নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের উপর (Humayun Kabir)। মঙ্গলবার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রেজিনগর থানায় হাজিরা দিতে যান তিনি। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই তাঁর মানিক্যহারের বাড়িতে পৌঁছে যায় শক্তিপুর থানার পুলিশ। দুটি পৃথক মামলায় তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে ফের নোটিস দেওয়া হয় বিধায়ককে। আগামী ১৯ জুলাই শক্তিপুর থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (Humayun Kabir)।

রেজিনগর থানার বাইরে পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হুমায়ুন (Humayun Kabir)
আগে থেকেই ঠিক ছিল হাজিরার দিন ও সময়। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ দলীয় কার্যালয় থেকে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে রেজিনগর থানায় পৌঁছন হুমায়ুন কবীর। থানায় যাওয়ার আগে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তোপ দাগেন তিনি। দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে বারবার ডাকা হচ্ছে। এরপর থানায় ঢুকে তদন্তকারী আধিকারিকদের মুখোমুখি হন তিনি। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ জুলাইও রেজিনগর থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন নওদার বিধায়ক। সেদিন টানা প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। সেই জিজ্ঞাসাবাদের পরই তদন্তের স্বার্থে ১৪ জুলাই ফের হাজিরা দেওয়ার নোটিস ধরানো হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই এদিন থানায় হাজিরা দেন তিনি।

রেজিনগরে হাজিরা, আর সেই সময়ই বাড়িতে শক্তিপুর থানার পুলিশ (Humayun Kabir)
হুমায়ুন কবীর যখন রেজিনগর থানায় উপস্থিত, তখনই তাঁর মানিক্যহারের বাড়িতে পৌঁছে যায় শক্তিপুর থানার পুলিশ। কারণ, শক্তিপুর থানায় দায়ের হওয়া মামলায় আগের হাজিরা তিনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন। গত ৩ জুলাই শক্তিপুর থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেদিন তিনি যাননি। সেই কারণেই দ্বিতীয়বার নোটিস নিয়ে এদিন তাঁর বাড়িতে যায় পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের হাতে নোটিস তুলে দিয়ে জানানো হয়, আগামী ১৯ জুলাই তাঁকে শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিতেই হবে। পুলিশ বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর পরিবারের সদস্যরাই নোটিস গ্রহণ করেন।

দুটি বিতর্কিত মন্তব্য, দুই থানায় মামলা (Humayun Kabir)
হুমায়ুন কবীরের দুটি পৃথক বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় পৃথক এফআইআর দায়ের হয়েছে। প্রথম ঘটনাটি গত ২৬ জুন। রেজিনগরের কাশীপুর হাটতলার এক জনসভায় বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে হুমায়ুন বলেন, “আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন স্যাঁটা ভাঙা মার শুরু করব যে আপনাদের পতাকা ধরার লোক থাকবে না।” এই মন্তব্যকে ঘিরেই রেজিনগর থানায় মামলা রুজু হয়।
অন্যদিকে, শক্তিপুর থানার গড়দুয়ার ঘাট সংলগ্ন এলাকায় একটি বিজয় সমাবেশে প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাতেও পৃথক এফআইআর দায়ের করে শক্তিপুর থানা। হুমায়ুনের এই বিতর্কিত মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক মহলেই নয়, বিধানসভাতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিধানসভার অধিবেশনে বিষয়টি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুমায়ুন কবীরকে সংযত থাকার বার্তা দেন। এরপরই দুই থানার পুলিশ তদন্তে গতি আনে। একাধিকবার হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়। মঙ্গলবার রেজিনগরে হাজিরা দেওয়ার পর এবার নজর ১৯ জুলাইয়ের দিকে। ওইদিন শক্তিপুর থানায় হাজিরা দেন কি না, সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।


