Bengal Liberty
সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ভারতকে আন্তর্জাতিক সালিশে টেনেছিল পাকিস্তান (Indus Water Treaty)। কিন্তু এখন সেই মামলার খরচের বড় অংশই নিজেদের কাঁধে বহন করতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে। এমনকি ভারতের অংশের ব্যয়ও পাকিস্তানকেই দিতে হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন (PCA)-এ চলা এই মামলার খরচ চালিয়ে যেতে পাকিস্তান ইতিমধ্যেই ৬ লক্ষ মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে। মামলা দীর্ঘায়িত হলে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

কেন ভারতের অংশের খরচও দিচ্ছে পাকিস্তান? Indus Water Treaty
নিয়ম অনুযায়ী, সালিশি প্রক্রিয়ার খরচ ভারত ও পাকিস্তান – উভয় দেশকেই সমানভাবে বহন করার কথা। কিন্তু ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পাহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত চুক্তি-সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের মদত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত থাকবে। কার্যত, ভারত সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ায়, শুনানি চালিয়ে যেতে হচ্ছে পাকিস্তানকেই। পাশাপাশি ভারতের অংশের খরচও বহন করতে হচ্ছে যা ভারতীয় মূল্যে প্রায় পাঁচ কোটির বেশি।

বিতর্কের মূল বিষয়
মামলা ভারতের কিশনগঙ্গা এবং রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে। পাকিস্তানের অভিযোগ, এই দুই প্রকল্পের নকশা সিন্ধু জল চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। সেই কারণেই তারা পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশনের দ্বারস্থ হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের দাবি, এই ধরনের বিরোধ নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ দ্বারা নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

কেন সালিশি প্রক্রিয়া বয়কট করছে ভারত?
পাহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসে মদত বন্ধ না করা পর্যন্ত সিন্ধু জল চুক্তি কার্যত স্থগিত থাকবে। ভারত আরও জানিয়েছে, পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশনের এই ট্রাইব্যুনালকে তারা বৈধ বলে মনে করে না। ভারতের মতে, এই ট্রাইব্যুনাল ‘অবৈধভাবে গঠিত। তাই এর যে কোনও রায় ‘অকার্যকর ও বাতিল’।

পাকিস্তানের খরচ বহন
ভারত যদি সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ না নেয় তবে পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করতে হবে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ৬ লক্ষ ডলারেরও বেশি ব্যয় হয়েছে, যার মধ্যে ভারতের অংশের খরচও রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে শুনানি চলতে থাকলে এই অঙ্ক আরও বাড়বে।
পাকিস্তান এখনও আর্থিক সংকট থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি। দেশটি বর্তমানে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের IMF Extended Fund Facility-এর আওতায় রয়েছে। ১৯৫০ সালে আইএমএফ-এর সদস্য হওয়ার পর এটি পাকিস্তানের ২৫তম ঋণ কর্মসূচি। আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৬ শতাংশ হতে পারে এবং গড় মূল্যস্ফীতি ৭.২ শতাংশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের নামমাত্র জিডিপি প্রায় ৪০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, তবে আইএমএফ-এর কাছে এখনও তাদের বিপুল ঋণ বকেয়া রয়েছে।
পাকিস্তান সালিশি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে আগ্রহী, অন্যদিকে ভারত ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারই মানছে না। নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট! সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

