FIFA Election 2026
Bengal Liberty
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে চমৎকার খেলা, স্মরণীয় মুহূর্ত(FIFA Election 2026) এবং অসাধারণ লড়াইয়ের পাশাপাশি রূপকথার মতো নানা গল্প উঠে এসেছে। মাঠের পারফরম্যান্সের দিক থেকে এবারের বিশ্বকাপ সব দিক দিয়েই অনন্য। তবে একই সঙ্গে টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতি মুহূর্তে দানা বেঁধেছে বিতর্কও। আর সেই সব বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন খোদ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।


কখনো মার্কিন ফুটবলারের লাল কার্ড প্রত্যাহার, আবার কখনো আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ—নানা কারণে বারবার কাঠগড়ায় উঠেছেন তিনি। এমনকি ফুটবলপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের একাংশ ইনফান্তিনোকে ফিফা সভাপতির পদ থেকে সরানোর দাবিও তুলেছেন। তবে এত নেতিবাচক সমালোচনা ও বিতর্কিত ঘটনার পরেও ফের একবার, অর্থাৎ চতুর্থবারের মতো ফিফা সভাপতি হতে চলেছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
অধিকাংশ দেশের সমর্থন(FIFA Election 2026)
সূত্রের খবর, ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে প্রায় ২০০টি দেশই আগামী দিনে ফিফার দায়িত্ব পালনের জন্য ইনফান্তিনোকে সভাপতি হিসেবে বেছে নিয়েছে। জার্মানি বা ইংল্যান্ডের মতো ফুটবল পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলো তাঁকে সমর্থন না জানালেও, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের অধিকাংশ দেশ ইনফান্তিনোকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এত বিতর্কের পরেও কেন বিশ্বের সিংহভাগ রাষ্ট্র ইনফান্তিনোকে ফের ফিফা সভাপতি হিসেবে দেখতে চাইছে? এর নেপথ্যে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ

আর্থিক প্রবৃদ্ধি(FIFA Election 2026)
জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর শাসনকালে ফিফার প্রতিটি সদস্য দেশে বিতরণ করা তহবিলের পরিমাণ প্রায় আট গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে তাঁর সময়ে ৫.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা ছোট ও অনুন্নত দেশগুলোর ফুটবল অবকাঠামো বদলে দিয়েছে।
বিশ্বকাপের সম্প্রসারণ(FIFA Election 2026)
পুরুষ ও নারী—উভয় ফুটবল বিশ্বকাপেই অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এর ফলে অনেক নতুন দেশ আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার এবং নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।
ফুটবলের বিশ্বায়ন(FIFA Election 2026)
ফুটবলকে শুধু ইউরোপ-কেন্দ্রিক না রেখে অন্যান্য মহাদেশেও বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে যাওয়া এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।
টুর্নামেন্টের পরিধি বৃদ্ধি(FIFA Election 2026)
তাঁর উদ্যোগেই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজিত হচ্ছে। পাশাপাশি ক্লাব বিশ্বকাপের পরিধিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এমনকি ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৬৪টি করার পরিকল্পনাও ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। ফিফা বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেবার স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগাল যৌথভাবে আয়োজকের দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি টুর্নামেন্টের প্রথম তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে।
সব মিলিয়ে, মাঠের বাইরের শত বিতর্কের মাঝেও জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বৈপ্লবিক ও উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্তগুলোই তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ আসনে টিকিয়ে রাখছে।

