Russia Ukraine
Bengal Liberty
ফের ছড়াচ্ছে উত্তেজনার আগুন। রাশিয়ার(Russia Ukraine) বেশ কয়েকটি জায়গায় ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালাল ইউক্রেন। এই হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের গুদাম এবং একটি তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা দেশের ১৯টি অঞ্চলে মোট ৩৭৯টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ১৬০৬ দিন পার হয়ে গেলেও পরিস্থিতি ক্রমশ আরও জটিল হয়ে উঠছে। সম্প্রতি ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়ে ৫০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছিল। ঠিক তার আগেই ইউক্রেনের রাজধানী কিইভ লক্ষ্য করে লাগাতার ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। ধারণা করা হচ্ছে, এরই পাল্টা জবাব হিসেবে এবার রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শহর ও অঞ্চলগুলোতে পাল্টা আঘাত হানল ইউক্রেনীয় সেনা।
নিহত ও আহতের সংখ্যা(Russia Ukraine)
কোটোভস্ক(Russia Ukraine)
এখানে একটি গুদামে হামলায় ৭ জন কর্মী নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন।

ইলেকট্রোস্টাল (মস্কোর নিকটবর্তী)(Russia Ukraine)
এখানে ড্রোন হামলায় ১ জন নিহত এবং ৩৭ জন আহত হয়েছেন।
অন্যান্য লক্ষ্যবস্তু(Russia Ukraine)
মস্কোর উত্তরে অবস্থিত নোগিনস্ক শহরের একটি তেল ডিপোতেও ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার তীব্রতার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে নিকটবর্তী একটি মাতৃসদন ও আবাসিক ভবন থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইউক্রেনের বক্তব্য(Russia Ukraine)
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ড্রোন ও নেভিগেশন সরঞ্জাম তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহে ব্যবহৃত লজিস্টিক হাব বা কৌশলগত কেন্দ্রগুলোকেই এবার নিশানা করা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা(Russia Ukraine)
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় ছিল এবং ১৯টি অঞ্চল জুড়ে ধেয়ে আসা মোট ৩৭৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
নেপথ্যে কি আমেরিকা(Russia Ukraine)
বিগত বেশ কিছু দিন ধরেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে পরপর হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন, আবার পাল্টা কিইভ শহরেও তাণ্ডব চালিয়েছে রাশিয়া। কিন্তু এতেও যুদ্ধের তীব্রতা কমেনি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও যুদ্ধের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশ চাপে পড়ছে। সেখানে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যখন হিমশিম খাচ্ছে,
ঠিক তখনই ইউক্রেনকে ঢাল করে রাশিয়াকে চাপে রাখতে চাইছে পেন্টাগন। পাশাপাশি কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে যে, ইরান যে এখনও আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তার নেপথ্যে রয়েছে ক্রেমলিনের (রাশিয়া) প্রচ্ছন্ন সমর্থন। আর সেই কারণেই ইউক্রেনকে ব্যবহার করে রাশিয়াকে পাল্টা শিক্ষা দিতে মরিয়া ওয়াশিংটন। শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয় এবং বিশ্ব রাজনীতিতে এর কী প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে চরম অস্বস্তিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।

