France Vs England
Bengal Liberty
বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নকে ভুলে ভারতীয়(France Vs England) সময় রাত ২:৩০ মিনিটে মায়ামি স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থানের ব্রোঞ্জ পদকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি ফ্রান্স বনাম ইংল্যান্ড। দুই দল তাঁদের নির্দিষ্ট সেমিফাইনালের ম্যাচে পরাজয় পেলেও এখনো আগামী দিনের বড় প্রতিযোগিতাকে পাখির চোখ করেই এগিয়ে যেতে হবে ইউরোপের দুই পাওয়ারহাউসকে।

ফ্রান্সের বিশ্বকাপ সফর(France Vs England)
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই হট ফেভারিট ছিল ফ্রান্স। আর সেই ভাবেই রাজকীয় আন্দাজে বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা শুরু করেছিল কিলিয়ান এমবাপেরা। প্রথম ম্যাচেই সেনেগালের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে দুর্দান্ত জয়। তারপরই ইরাক ও নরওয়ের বিরুদ্ধে দাপটের সঙ্গে জয় তুলে নেওয়ার পর আস্তে আস্তে ফ্রান্সের ছন্দপতন শুরু হয়। নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয় পেলেও ম্যাচের প্রতি মুহূর্তে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বোঝাই যাচ্ছিল, এই দলের বিশ্বকাপ জেতা একটু হলেও মুশকিল হতে পারে।

আর ঠিক তার পরেই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে কোনোরকমে পেনাল্টির সুবাদে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতার পরেও অনেকের ধারণা ছিল, স্পেনের সামনে ফ্রান্স আদৌ জিততে পারবে কি না। সবার ধারণাই সত্যি করে স্পেনের বিরুদ্ধে লজ্জাজনক নজির গড়ে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন শেষ হলো লে ব্লুদের। এরই সঙ্গে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে শেষবারের মতো কিংবদন্তি বিশ্বকাপজয়ী ডিডিয়ের ডেসচ্যাম্পসের শেষ ম্যাচে অন্তত জয়ের সঙ্গেই বিদায় দিতে মরিয়া গোটা ফ্রান্স দল।
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ সফর(France Vs England)
১৯৬৬ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে সোনালি ট্রফি জিততে শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নেমেছিল থ্রি লায়ন্সরা। কিন্তু এবারেও খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে ইংল্যান্ডকে। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-২ গোলে জয়ের পর অনেকের মনে হয়েছিল, ‘ফাইনালি ইটস কামিং হোম’। কিন্তু ঘানার বিরুদ্ধে ড্রয়ের পর সেই স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়। তারপর পানামার বিরুদ্ধে জয়। নকআউট পর্বে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জয়, তারপর আয়োজক দেশ মেক্সিকোর বিরুদ্ধে স্মরণীয় জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড।
ফের একবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু আবারও শেষ মুহূর্তে রণভঙ্গ দেওয়ার মতো ২-১ গোলে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে হেরে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন চুরমার হলো ইংল্যান্ডের। এর পাশাপাশি হারের জন্য ঘরে-বাইরে সমালোচনার মুখে ম্যানেজার তোমাস তুচেল। পারবেন কি তিনি এবং তাঁর দল ব্রোঞ্জ পদক জিতে কিছু সময়ের জন্য হলেও সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে? এর উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।

পরিসংখ্যানে এগিয়ে ইংল্যান্ড(France Vs England)
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত ৩২ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ১৭টি ম্যাচে, ফ্রান্স জয়ী হয়েছে ১০টিতে এবং বাকি ৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে তিন বারের দেখায় দুই বার ইংল্যান্ড জিতলেও, সর্বশেষ দেখায় ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স ২-১ গোলে জয়লাভ করে।

মহাতারকাদের লড়াই(France Vs England)
ফ্রান্স বনাম ইংল্যান্ড মানে শুধুমাত্র দুই দেশের লড়াই নয়, দুই দলের গুরুত্বপূর্ণ তারকাসমৃদ্ধ খেলোয়াড়দেরও লড়াই। আগে হতো ওয়েন রুনি বনাম জিনেদিন জিদান বা ডেভিড বেকহ্যাম বনাম থিয়েরি অঁরির লড়াই। এখন সেই তালিকায় রয়েছে জুড বেলিংহাম বনাম ওসমান দেম্বেলে। তবে সবাইকে ছাপিয়ে কিলিয়ান এমবাপে বনাম হ্যারি কেনের দ্বৈরথের জন্য বিশ্ব ফুটবলের সমর্থকেরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন। বিগত অনেকগুলি বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানের ম্যাচকে কেন্দ্র করে তেমন কোনো আগ্রহের জন্মায়নি। কিন্তু এই বিশ্বকাপে ফাইনালের মতোই ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ ঘিরেও উন্মাদনা তুঙ্গে। দেখা যাক, শেষ হাসি কে হাসে।

