Bengal Liberty:
যন্তর মন্তরে টানা ২১ দিন ধরে অনশন করার পর, এক প্রকার জোর করেই সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। পুলিশ কর্তৃপক্ষের দাবি, আদালতের নির্দেশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোনম ওয়াংচুকের এই অনশন নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই সঙ্গেই নিজের ২৬ দিনের অনশনের স্মৃতিও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

মমতা ও সিঙ্গুর আন্দোলন
Mamata Banerjee
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সিঙ্গুর আন্দোলন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন এবং ২৬ দিনের অনশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন উঠছে— সোনম ওয়াঙচুকের অনশনের সঙ্গে নিজের অনশনকে কীভাবে তুলনা করছেন মমতা?

অনশনে নেত্রীর খাবারের তালিকায় কী ছিল?
Mamata Banerjee
পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের প্রাক্তন আইএএস অফিসার দীপক কুমার ঘোষ তাঁর ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেমন দেখেছি’ বইয়ের ৯৩ পৃষ্ঠায় দাবি করেছেন, সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় মমতার ২৬ দিনের অনশনটি আদতে ছিল লোকদেখানো। লেখক সেখানে স্পষ্ট লিখেছেন, “অনশনের প্রথম দু-তিন দিন লেবু জল ও গ্লুকোজ খেয়ে কাটান। (মমতা) মঞ্চ ছাড়লেই নৈশভোজের জন্য গোপনে গোটা চারেক চিকেন অথবা চিজ স্যান্ডউইচ, নরম আলুভাজা ও ফিশ ফিঙ্গার আসত ঝাউতলার ডালহৌসি ইনস্টিটিউট থেকে।” সমালোচকদের দাবি, নেত্রীর এমন দ্বিচারিতার ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে।

প্রতিবাদের পথ এক হলেও, সোনম ওয়াংচুকের আত্মত্যাগ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুবিধাবাদী রাজনীতি কখনোই এক হতে পারে না বলে মনে করছেন বিরোধীরা।
প্রসঙ্গত, NEET পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, বেকারত্ব এবং স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে অনশনে বসেছেন ওয়াংচুক। অনশনের কারণে দ্রুত তাঁর ওজন কমতে থাকায় আদালতের নির্দেশে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কোনো অবস্থাতেই নিজের দাবি থেকে সরবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক।
আরও পড়ুনঃ বিধানসভায় গুপ্ত বৈঠক ঋতব্রত শিবিরের, কী স্ট্র্যাটেজি ঠিক হলো?

