Bengal Liberty : রাজারহাটের দক্ষিণ নারায়ণপুরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত (Rajarhat)। সোদপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মহম্মদ শামিম ওরফে সেলিমকে। ঘটনায় নাবালক-সহ আরও ৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বাড়ির মালিক ও ব্রোকারকেও জেরা করছেন তদন্তকারীরা। কী উদ্দেশ্যে ভাড়া বাড়িতে বোমা মজুত করা হয়েছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, সেই দিকেই এখন জোর দিচ্ছে পুলিশ (Rajarhat)।

নাবালকের হাতে বোমা (Rajarhat)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্রোকার শাহনশাহর মাধ্যমে দক্ষিণ নারায়ণপুরের সুপারি বাগানের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন মহম্মদ শামিম ওরফে সেলিম। শুক্রবার রাতে একটি পাটের ব্যাগে বোমা ভরে সেই বাড়িতে পাঠানো হয়। অভিযোগ, এক নাবালকের হাত দিয়েই ব্যাগটি বাড়িতে পৌঁছয়। ব্যাগটি রাখার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর তল্লাশি চালিয়ে ওই বাড়ি থেকে আরও দুটি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে বম্ব স্কোয়াড সেগুলি নিষ্ক্রিয় করে। কেন ওই বাড়িতে বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল? নাবালককে কেন ব্যবহার করা হল এবং এর পিছনে কোনও বড় নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃত শামিম, আটক ব্যক্তিরা, বাড়ির মালিক জুলফিকার আনসারি এবং ব্রোকার শাহনশাহকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এদিকে ঘটনার পর NIA-এর আধিকারিকরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বলেছেন। যদিও মামলার মূল তদন্ত করছে রাজ্য পুলিশ। তাদের সঙ্গে রয়েছে বম্ব স্কোয়াডের বিশেষ দলও।
কে এই শামিম
সূত্রের খবর, শামীম এলাকায় না থাকলেও তার পরিবার ছিল কামারহাটি এলাকার ম্যাকেঞ্জি রোডে। অতীতে পুলিশ রেকর্ড রয়েছে। দুই দাদা রয়েছে। দাদাদের সঙ্গে সম্পর্ক নেই বলেই পুলিশ সূত্রে দাবি। নারায়ণপুর এলাকাতেই থাকত সে বলে মনে করা হচ্ছে। শামীম কলকাতার দিকে ফল বিক্রি করতে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। আরও খবর, আগের পুলিশ কেসের পর থেকে এলাকায় আসত নাসে। শামীমের পরিবারের দুই দাদার সঙ্গেও কথা বলেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে দক্ষিণ নারায়ণপুরের সুপারি বাগানের ওই বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন আহত হন। তদন্তে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই ওই বাড়ির একটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন শামিম। ঘটনার দিন তিনি একটি সাদা ব্যাগ নিয়ে সেখানে আসেন। ব্যাগটি রেখে বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিস্ফোরণ ঘটে। সেই বিস্ফোরণের পুরো ঘটনাই সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। তদন্তকারীদের মতে, সেই ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে।


