Taslima Nasrin
Bengal Liberty: মৌলবাদী বাধা ও দীর্ঘ দুই দশকের নির্বাসন কাটিয়ে অবশেষে কলকাতায় ফিরছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে শহরজুড়ে পোস্টার দিল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা।
হিন্দু মহাসভার অবস্থান (Taslima Nasrin)
তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় ফেরার উদ্যোগকে রাজ্যের বর্তমান সরকারের একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে হিন্দু মহাসভা। দলের রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যপাল এবং রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বামফ্রন্ট ও তৃণমূল সরকারের আমলে যে মৌলবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করা হয়েছিল, বর্তমান সরকারের আমলে তার অবসান ঘটেছে। ডক্টর গোস্বামীর কথায়, “তসলিমা নাসরিনের প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে যে, এই সরকার জিহাদী মৌলবাদের রক্তচক্ষুকে ভয় পায় না।”

সাংস্কৃতিক ও আদর্শগত লড়াই (Taslima Nasrin)
তসলিমা নাসরিনের কলমকে ‘মুক্ত কণ্ঠের প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে হিন্দু মহাসভার মহিলা শাখার সম্পাদিকা অনামিকা মন্ডল বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মৌলবাদের বিরুদ্ধে তসলিমা যেভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তা সব নারীর জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। মহাসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে রবীন্দ্রসদন, অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস, গিরিশ মঞ্চসহ কলকাতার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে তারা মৌলবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক লড়াই চালিয়ে যাবে।

রাজনৈতিক বিতর্ক (Taslima Nasrin)
তসলিমা নাসরিনের ফিরে আসার বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। বামপন্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের বিরোধিতার প্রসঙ্গ টেনে হিন্দু মহাসভার নেতাদের দাবি, যারা মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, তসলিমা নাসরিনের প্রত্যাবর্তন আসলে তাদের দ্বিমুখী চরিত্রকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।
তসলিমা নাসরিনের এই প্রত্যাবর্তন যে পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক আঙিনায় নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, তাঁর এই সফর ঘিরে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়

