Abhishek Banerjee
Bengal Liberty
আমতলার ভবন ভাঙার উপর(Abhishek Banerjee) অন্তর্বর্তী স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে নতুন করে আর কোনও ভাঙচুর বা নির্মাণকাজ চালানো যাবে না। এর ফলে কলকাতা হাইকোর্টে কিছুটা স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমতলার ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ নিয়ে রবিবার হাইকোর্টে একটি বিশেষ শুনানি হয়। শুনানিতে একদিকে রাজ্য ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ দাবি করেছে যে, নির্মাণটি সম্পূর্ণ বেআইনি। অন্যদিকে অভিষেকের আইনজীবীদের অভিযোগ—আইন মেনে নোটিস দেওয়া, শুনানি করা কিংবা ভবন ভাঙার সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

কাল বুলডোজার, আজ হাতুড়ি(Abhishek Banerjee)
অভিষেকের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে জানান, পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী কোনও ভবন ভাঙার আগে তার মালিককে শুনানির নোটিস দেওয়ার কথা থাকলেও, এই ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। এমনকি অভিযোগের কোনও কপি যেমন দেওয়া হয়নি, তেমনই ভবন ভাঙার নির্দেশের কপিও তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

কিশোর দত্ত আরও বলেন(Abhishek Banerjee)
“কোনও নির্মাণ বেআইনি প্রমাণিত হলেও প্রথমে মালিককে তা নিজেকে ভেঙে ফেলার সুযোগ দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মালিক তা না ভাঙলে তবেই প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই সুযোগ না দিয়েই শনিবার থেকে আচমকা ভাঙার কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে।” আদালতের কাছে তাঁর প্রশ্ন, “এত তাড়াহুড়োর কী প্রয়োজন ছিল? মামলাকারী যাতে আদালতে আসার সুযোগ না পান, সেই জন্যই কি শনিবার বন্ধের দিনে ভাঙার কাজ শুরু করা হয়েছিল?”অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্তের বক্তব্যের বিরোধিতা করে ।

রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১৩ জুনই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল ঠিক কোন আইনের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ভবনটির কোনও বৈধ অনুমোদন ছিল না এবং এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের বেআইনি নির্মাণকে রক্ষা করা হলে সমাজে ভুল বার্তা যাবে এবং বেআইনি কাজই উৎসাহ পাবে বলে আদালতে সওয়াল করা হয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের আইনজীবী তাপস মণ্ডল জানান, জেলা পরিষদের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের তদন্তে ধরা পড়েছে ভবনটি কোনও বৈধ অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, অনুমোদিত সীমার চেয়ে এটি প্রায় ৬.৫ মিটার বেশি উঁচু। গত ২৫ জুন জমা দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই ‘হিয়ারিং অফিসার’ ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী জানতে চান, জমির মালিক আদৌ জেলা পরিষদের নোটিস সম্পর্কে অবগত ছিলেন কি না। পাশাপাশি, মামলাটি নিয়মিত বেঞ্চে ওঠার আগে এভাবে তাড়াহুড়ো করে ভাঙার কাজ চালিয়ে যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। জেলা পরিষদের কাছে আদালত জানতে চায়, ভবন ভাঙার নির্দেশের কপি আদৌ মালিকপক্ষকে নিয়ম মেনে দেওয়া হয়েছিল কি না। উল্লেখ্য, আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের ৫ তলা ভবনটি বেআইনি—এই অভিযোগ তুলে বুলডোজার দিয়ে ভাঙার কাজ শুরু করে প্রশাসন। এর পরপরই আদালতের দ্বারস্থ হন অভিষেক। শনিবারের পর রবিবারও ওই ভবনে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙার কাজ চলছিল বলে জানা যায়। তবে হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর এখন ওই বিতর্কিত নির্মাণের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়, সেটাই দেখার।

