Russia Ukraine War
Bengal Liberty
গতকাল ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ(Russia Ukraine War) শহরকে লক্ষ্য করে টানা ড্রোন হামলা চালিয়েছিল রাশিয়ার সেনা। হামলায় আকাশ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গিয়েছিল এবং চারিদিকে শুধু স্বজনহারাদের কান্না চোখে পড়েছে। এই হামলার পরপরই তীব্র ভাষায় এর নিন্দা জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিন্তু সেই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও রাজধানী কিয়েভে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলা চালালো রাশিয়া! যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার পক্ষ থেকে এত বড় হামলা আর কখনো করা হয়নি।


টানা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় বর্তমানে জর্জরিত গোটা ইউক্রেন। রাতে পরিচালিত এই ভয়াবহ হামলায় প্রায় অর্ধশতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২০টিরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। এই হামলায় কিয়েভে অন্তত ১ জন নিহত ও ১৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে বেশ কয়েকটি আবাসিক ও প্রশাসনিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ন্যাটো (NATO) শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করার পরেই রাশিয়ার পক্ষ থেকে হামলার তীব্রতা ও পরিধি আরও বাড়িয়ে দেওয়া হলো। কৌশলগত এই বারংবার আক্রমণের কারণে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে এবং পুরো দেশটাই যেন এক মৃত্যুমিছিলে পরিণত হয়েছে।
আক্রমণের ধরন(Russia Ukraine War)
রাশিয়ার ছোড়া প্রায় চার ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যালিস্টিক ট্র্যাজেক্টোরিতে ছিল। জানা গেছে, এগুলোর মধ্যে ইস্কান্দার-এম (Iskander-M), এস-৪০০ (S-400) এবং জিরকন (Zircon) ক্ষেপণাস্ত্রও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত(Russia Ukraine War)
কিয়েভের অন্তত ছয়টি জেলা এই হামলায় সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে। বহু আবাসিক ভবন, অফিস ও গুদামে আগুন ধরে যায়। কিয়েভ ছাড়াও আশেপাশের অঞ্চলগুলো থেকেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিক্রিয়া(Russia Ukraine War)
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা একে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় হামলা বলে বর্ণনা করেছেন। ইউক্রেনীয় বাহিনীর দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে বেশিরভাগ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, পর্যাপ্ত প্যাট্রিয়ট (Patriot) ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের অভাবে দেশের আকাশসীমা দিন দিন অরক্ষিত হয়ে পড়ছে। বর্তমান বিশ্বের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে যেন এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা চলছে—কোন যুদ্ধের খবর বেশি ছড়াবে? মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, নাকি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, নাকি ১৬০০ দিন পার করে যাওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। তবে এই যুদ্ধের মরণখেলায় একটি চিরন্তন সত্য বারবার প্রমাণিত হচ্ছে—’রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।’

