Madan Mitra
Bengal Liberty : প্রথমে দল নয়, ‘ঘর’ বদল করেন মদন মিত্র-যোগ দেন ঋতব্রত শিবিরে (Madan Mitra)। তারপর হঠাৎ একদিন তাঁকে দেখা যায় কালীঘাটের তৃণমূল কর্মসূচিতে। আর এবার ঋতব্রত শিবিরের প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও বিধানসভায় তিনি বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের সারিতেই! মদন মিত্রের এই রাজনৈতিক ‘গুগলি’ বুঝে ওঠা সবার জন্যই দুষ্কর হয়ে উঠছে। তবে কি কুণাল ঘোষের কথাই ধ্রুব সত্য? মদন মিত্রের শরীর অন্য শিবিরে গেলেও মন পড়ে রয়েছে কালীঘাটেই? নাকি এটি তাঁর পুরনো অভ্যাস? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। উল্লেখ্য, গত বুধবার ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেন মমতার এই ‘কালারফুল বয়’। অথচ শুক্রবার হঠাৎই গেরুয়া পাঞ্জাবি পরে কালীঘাটের তৃণমূল কর্মসূচিতে হাজির হন তিনি। শুধু তা-ই নয়, ভরা বিধানসভায় ঋতব্রত শিবিরের বদলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের নির্দিষ্ট আসনেই গিয়ে বসেন কামারহাটির বিধায়ক (Madan Mitra)।

ঋতব্রত শিবিরে যোগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই কালীঘাট শিবিরের কর্মসূচিতে দেখা যায় মদনকে!
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরে যোগ দেওয়ার মাত্র ২ দিনের মধ্যেই তাঁকে দেখা গেল কালীঘাট-ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের বিধানসভা চত্বরের কর্মসূচিতে। হঠাৎ তাঁর উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিধানসভা চত্বরে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে মদন মিত্রকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক প্রবীণ নেতার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষও। মদন মিত্রকে সামনে রেখেই কুণাল বলেন, “মদনদা শারীরিকভাবে হয়তো ওদিকে গেছেন। কিন্তু মদনদার মন এখনও এখানে রয়েছে। আমরা জানি, তিনি কী বিশ্বাস করেন। ইডি দিয়ে তাঁর পরিবারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাই ২-৪ দিন তিনি যা মনে হয় বলুন। আমরা এটুকু জানি, আমাদের ভেতরের একজন মানুষ ওদের মধ্যেই রয়েছেন।”

‘ঘর’ বদলালেও মন বদলেছে কি? (Madan Mitra)
গত ১৬ জুলাই (বুধবার) তৃণমূলের জাতীয় কমিটির চিফ হুইপ, ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য এবং সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা দেন মদন মিত্র। পদত্যাগের পর তিনি দাবি করেছিলেন, ভবিষ্যতে বিজেপিকে হারানোর লক্ষ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্যের প্রমাণ দিতে মদন মিত্রকে বহুবার শোভন চট্টোপাধ্যায় ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কালীঘাটে ছুটে যেতে দেখা গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই ‘কালারফুল বয়’ যে কখনও তাঁকে রাজনীতির রঙ দেখিয়ে দূরে সরে যাবেন, তা হয়তো বিরোধীরাও ভাবতে পারেনি। এমনকি ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েও তিনি বলেছিলেন, “দল বদলাইনি, শুধু ঘর বদলেছি।” এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুণাল ঘোষ আগে বলেছিলেন যে, মদন মিত্র কেবল চাপের মুখে পরেই ‘ঘর’ বদলেছেন। বিধানসভার সাম্প্রতিক চিত্র যেন কুণালের সেই মন্তব্যকেই আরও একবার সত্যি বলে প্রমাণ করল।

আরও পড়ুন :
Lok Sabha: লোকসভায় বদলে গেল সমীকরণ! প্রথম সারিতে সুদীপ, পিছোলেন অভিষেক

