Sonam Wangchuk
Bengal Liberty : টানা অনশনের পর অবশেষে অনশন ভাঙার ইঙ্গিত দিলেন সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। তবে নিঃশর্তে নয়। সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনই তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে পারেন। তার আগে সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে তিনটি শর্ত দিয়েছেন। যার অন্তত একটি পূরণ করলেও তিনি অনশন ভাঙবেন বলে জানিয়েছেন। যন্তরমন্তর থেকে সরিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করার পরও তিনি এখনও খাদ্য বা তরল কিছুই গ্রহণ করেননি বলে দাবি পরিবারের। এই পরিস্থিতিতে হাতে লেখা একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ওয়াংচুক। একই সঙ্গে সোমবারের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকেও তিনি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন (Sonam Wangchuk)।

তিনটি শর্তের যে কোনও একটি মানলেই অনশন প্রত্যাহার (Sonam Wangchuk)
সোমবার তাঁর এক্স হ্যান্ডলে একটি হতে লেখা চিঠি পোস্ট করেছেন ওয়াংচুক। সেই খোলা চিঠিতে সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাঁর দেওয়া তিনটি শর্তের মধ্যে যে কোনও একটি পূরণ করলেই তিনি অনশন ভাঙতে প্রস্তুত।
প্রথম শর্ত, সরকারকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় স্বীকার করতে হবে।
দ্বিতীয় শর্ত, তিনি এবং সিজেপির নেতৃত্ব যদি সংসদে যাওয়ার সুযোগ পান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-সাংসদেরা সংসদে শিক্ষা দুর্নীতি ও জবাবদিহি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন, তাহলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন।
তৃতীয়, যদি শারীরিক অবস্থার কারণে সংসদে যাওয়া সম্ভব না হয়, তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদদের সফদরজং হাসপাতালে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করে একই আশ্বাস দিতে হবে।
চিঠিতে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন, অনশন ভাঙার বিষয়ে অনেকেই জানতে চাইছেন। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, ২০ জুলাই অনশন প্রত্যাহার সম্ভব, যদি সরকার দায়বদ্ধতার বার্তা দেয় বা সংসদে বিষয়টি নিয়ে কার্যকর আলোচনার নিশ্চয়তা মেলে। সেই অবস্থানই এদিন আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।
WHEN WILL I END THE FAST….!
Not withstanding my health my fast continues till after the Sansad Chalo March, and will be broken only under the following circumstances… pic.twitter.com/kaOGx2Nk4T— Sonam Wangchuk (@Wangchuk66) July 20, 2026

সোমবার ‘সংসদ চলো’ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা (Sonam Wangchuk)
শনিবার যন্তরমন্তর থেকে সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে দিল্লি পুলিশ। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলী আঙ্গমোর দাবি, চিকিৎসকরা বারবার খাদ্য গ্রহণের অনুরোধ করলেও সোনম এখনও কোনও ধরনের তরল খাবারও গ্রহণ করেননি। তবে সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার দিনই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এদিকে সোমবারই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ঘোষিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি রয়েছে। আন্দোলনে সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সোনম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা যেমনই থাকুক, কর্মসূচির পরেও অনশন চলবে এবং কেবলমাত্র তাঁর দেওয়া শর্তগুলির যে কোনও একটি পূরণ হলেই তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই সংসদ ভবনের দিকে এই মিছিলের অনুমতি দেয়নি। সংসদ চত্বর ও আশপাশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট ইঙ্গিত, অনুমতি ছাড়া সংসদের দিকে মিছিল এগোলে পুলিশি হস্তক্ষেপ করা হতে পারে। ফলে সোমবার একদিকে যেমন সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে, অন্যদিকে সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন ঘিরে রাজধানীতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উত্তেজনাও তুঙ্গে উঠেছে।
আরও পড়ুন :
Sonam Wangchuk : শর্ত মানলেই অনশন প্রত্যাহার করবেন সোনম ওয়াংচুক!

