WB Voter List Revision 2025
Bengal Liberty Desk, ৭ মার্চ, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নয়া নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ‘পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশন ওয়াচ’ (WBEW)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটারদের ২০০২ সালের নথির প্রমাণ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশিকার ফলে বহু সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকার মূল বিষয় (WB Voter List Revision 2025)-

নির্বাচন কমিশনের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রমাণ করতে হবে যে, ২০০২ সালের নিবিড় সংশোধন (SIR) তালিকায় তাঁর বা তাঁর পরিবারের নাম ছিল।
যদি কোনও ভোটার নিজের নাম ২০০২ সালের তালিকায় দেখাতে না পারেন, তবে তাঁকে তাঁর বাবা, মা, দাদু-ঠাকুমা বা দিদিমা-ঠাকুরদার নাম ওই তালিকায় থাকার প্রমাণ দিতে হবে।
২০০২ সালের যোগসূত্র প্রমাণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে ইআরও (ERO) অফিস থেকে নোটিশ পাঠানো হবে। সেক্ষেত্রে জন্মস্থান ও জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসেবে কমিশনের নির্ধারিত ১১টি নথির মধ্যে যেকোনও একটি জমা দিতে হবে। অন্যথায় তাঁর নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে মুছে ফেলা হবে।
২০০২ বনাম ২০২৫ প্রক্রিয়ার ফারাক (WB Voter List Revision 2025)!
ইলেকশন ওয়াচের পক্ষ থেকে আরটিআই (RTI) মারফত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০০২ সালের সংশোধন প্রক্রিয়া বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি নমনীয় ছিল।
১. ২০০২ সালে ভোটারদের থেকে পূর্ববর্তী ১৯৯৫ সালের কোনও প্রমাণ চাওয়া হয়নি। কিন্তু ২০২৫ সালে ২০০২ সালের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
২. ২০০২ সালে এনুমেটররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করতেন এবং ভোটারদের কোনও ফর্ম পূরণ করতে হতো না। বর্তমানে ভোটারদের নিজেদেরই ফর্ম পূরণ করে বিএলও (BLO)-র কাছে জমা দিতে হচ্ছে।
৩. ২০০২ সালে নতুন ঠিকানায় ভোটারদের নাম তোলার সুব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে স্থানান্তরিত ভোটারদের জন্য তেমন কোনও সহজ পদ্ধতি নেই, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন (WB Voter List Revision 2025)-
SIR Final Electoral Roll 2026: SIR শেষে প্রকাশ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, রাজ্যে ভোটার ৭.০৪ কোটি, বাদ ৬৩ লক্ষের বেশি নাম
WB SIR Final Voter List 2026: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই বড় চমক! উত্তর থেকে দক্ষিণ কোথায় বাদ কত নাম?
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, প্রতিটি ভোটারকে তাঁদের নাগরিকত্বের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে এই নথিগুলো হাতের কাছে রাখতে হবে। বার্থ সার্টিফিকেট, স্কুল বা কলেজের সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট বা প্যান কার্ডের মতো নথিগুলো এক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। তবে পঞ্চায়েত বা পুরসভার সার্টিফিকেট এবং রেশন কার্ডকে বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হচ্ছে না।
এই কড়াকড়ির ফলে কয়েক দশক ধরে এরাজ্যে বসবাসকারী বহু মানুষ কি তাঁদের ভোটাধিকার হারাবেন? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে (WB Voter List Revision 2025)।
