Kalyani hospital violence
Bengal Liberty, কলকাতা ১৭ মার্চ ২০২৬ :
নদিয়ার কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল (জেএনএম) হাসপাতালে চরম বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের ইন্টার্ন ও হাউসস্টাফদের বিরুদ্ধে দাদাগিরি, রোগী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং চিকিৎসা পরিষেবায় অবহেলার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। দুই পক্ষই মারমুখী হয়ে ওঠে। রোগীর পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি হাসপাতালে কেন এমন পরিস্থিতি, তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠছে। কিন্তু কেন এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।

জেএনএম হাসপাতালে তাণ্ডব :
অভিযোগ, গতকাল রাত ১০টা নাগাদ এক স্থানীয় ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁর মাথায় চোট ছিল। জরুরি পরিষেবা বিভাগে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তাঁকে সার্জিকাল ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এরপরই শুরু হয় কথাকাটাকাটি, যা দ্রুত বচসায় রূপ নেয়। অভিযোগ, তারপর হাসপাতালের ইন্টার্ন ও হাউসস্টাফরা মৃত রোগীর পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এমনকি এক মহিলার চুলের মুঠি ধরে বেনজির হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে।

এফআইআর পাল্টা এফআইআর :
ঘটনার পর রোগীর পরিবার স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করে। পাশাপাশি হাসপাতালের তরফ থেকেও রোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে পাল্টা এফআইআর রুজু করা হয়।
মৃত রোগীর পরিবারের অভিযোগ – ” মাথায় চোট লাগার পর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু ডাক্তার কিংবা নার্স কেউ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি। রক্তক্ষরণ বন্ধ হলে আজ আমার স্বামী বেঁচে থাকতেন। উল্টে প্রশ্ন করা হলে কয়েকজন ছেলে এসে আমাদের উপরেই বেধড়ক মারধর করে।”
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি:
“রোগীকে নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল। আমাদের তরফ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়েছে। রোগীর পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানানো হলে তারা আমাদের উপর পাল্টা চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে। এরপর কিছু কর্মী এসে আমাদের উদ্ধার করে। ইতিমধ্যেই থানায় এফআইআর করা হয়েছে। আশা করি পুলিশ তাদের কাজ করবে।”
কর্মবিরতির ডাক :
এফআইআর পাল্টা এফআইআর এর পরে হাসপাতাল কতৃপক্ষ একটি বড়ো সিদ্ধান্ত নেন।
জুনিয়র চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। নিজেদের ৮ দফা দাবি তুলে ধরে ইতিমধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তা জানানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে বলেই জানিয়েছে চিকিৎসক মহল। এইরকম পরিস্তিতির মধ্যে একদমই কাজ করতে চান না ডাক্তার, নার্স রা তারা নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রোগী চিকিৎসা করছেন রোগীর কিছু হয়ে গেলে সম্পূর্ণ দোষ কেন হাসপাতালে ডাক্তারদের জীবন দিয়ে নেওয়া হবে।
শেষ মেশ কাদের দাবি মানা হবে সেটাই এখন বড়ো প্রশ্ন।
