Bhabanipur Returning Officer Removal
Bengal Liberty Desk, ২৫ মার্চ, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ ঘিরে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক বিতর্ক। ওই কেন্দ্রের নবনিযুক্ত রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায়ের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে (ECI) একটি কড়া চিঠি পাঠালেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন।
কী অভিযোগ (Bhabanipur Returning Officer)?

তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে সরাসরি সুরজিৎ রায়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুরজিৎ রায়ের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের সম্ভাবনা থাকায় তাঁকে ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে রাখা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে ব্যাহত করবে।
জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ২৮এ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত অফিসারদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং বহিঃপ্রভাব মুক্ত থাকা আবশ্যিক। তৃণমূলের দাবি, সুরাজিত রায়ের নিয়োগ এই আইনি নীতির পরিপন্থী।
আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন (Bhabanipur Returning Officer)!
ডেরেক ও’ব্রায়েন চিঠিতে অভিযোগ করেছেন যে, কোনও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এমন আধিকারিককে ওই কেন্দ্রে বসানো হয়েছে, যা আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধির (MCC) সরাসরি লঙ্ঘন।
অভিযোগের মূলে ‘নন্দীগ্রাম কানেকশন’ (Bhabanipur Returning Officer)-

তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে সুরজিৎ রায়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে তিনটি প্রধান যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে-
১. শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠতা: তৃণমূলের দাবি, সুরাজিত রায় ইতিপূর্বে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও (BDO) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। যেহেতু শুভেন্দু অধিকারী নিজে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছেন, তাই সুরজিৎ রায়ের অধীনে ভবানীপুরে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হওয়া নিয়ে বড়সড় আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শাসকদল।
২. অস্বাভাবিক নিয়োগ ও পদমর্যাদা: বর্তমানে সুরজিৎ রায় ‘অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর অফ ল্যান্ড রেকর্ডস’ পদে রয়েছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, তাঁর বর্তমান সিনিয়রিটি অনুযায়ী এই পদে নিয়োগ এবং নির্বাচনের সময় তাঁকে ভবানীপুরের মতো হেভিওয়েট কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। সাধারণত এই পদগুলি সরকারের যুগ্ম সচিব (Joint Secretary) পদমর্যাদার অফিসাররা সামলান।
৩. সংবিধানের ৩২৪ ধারা লঙ্ঘন: ডেরেক ও’ব্রায়েন চিঠিতে লিখেছেন যে, পক্ষপাতদুষ্ট আধিকারিক নিয়োগ করে সংবিধানের ৩২৪ ধারাকে লঙ্ঘন করছে কমিশন, যা জনগণের আস্থাকে ক্ষুন্ন করছে।
তৃণমূলের দাবিদাওয়া (Bhabanipur Returning Officer)-
কমিশনের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে চারটি প্রধান দাবি রাখা হয়েছে,
১. ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সুরজিৎ রায়ের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
২. নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পবিত্রতা বজায় রাখতে তাঁকে সমস্ত রকম নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে।
৩. ওই কেন্দ্রে কোনও প্রবীণ, নিরপেক্ষ এবং অরাজনৈতিক ভাবমূর্তির আধিকারিককে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করতে হবে।
৪. অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব রকম পদক্ষেপ নিতে হবে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় অস্ত্রোপচার চালিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। গত সোমবার রাতে এক নজিরবিহীন নির্দেশিকায় রাজ্যের মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে (RO) তাদের পদ থেকে অপসারিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, রাজ্যের প্রায় ২৬ শতাংশ আসনে একযোগে নির্বাচনী আধিকারিক পরিবর্তন করেছে কমিশন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরের আরও-কেও সরানো হয়েছে। সেখানে আরও হয়েছেন সুরজিৎ রায়। তিনি ২০১১ সালের ডব্লিউবিসিএস অফিসার। এর আগে রাজ্যে এক ঝাঁক জেলাশাসকদের সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন।
৭৩ জন রিটার্নিং অফিসার বদল ও নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গ (Bhabanipur Returning Officer)

গত সোমবার রাতে একযোগে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে (RO) বদলি করার কমিশনের সিদ্ধান্তকেও একহাত নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল, মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে মমতা দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন এখন পুরোপুরি বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছে। দলনেত্রীর কথায়, “কেন নন্দীগ্রামের বিডিও-কে হঠাৎ ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার করে আনা হলো? কেন এই রদবদল?”
আরও পড়ুন-
Returning Officers removed WB: ভোটের মুখে কমিশনের মেগা রদবদল! বাংলা থেকে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে একযোগে অপসারণ, তালিকায় মমতার ভবানীপুরও
Returning Officer Appointment : বিধানসভা ভোটের আগে কড়া কমিশন, ২৯৪ আসনে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ,প্রথমবার এসডিএম-রাও রিটার্নিং অফিসার
মমতার অভিযোগের পাল্টা মন্তব্য শুভেন্দুর (Bhabanipur Returning Officer)-

মমতার মন্তব্য প্রসঙ্গে পাল্টা দিয়েছেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর কথায়, ইলেকশন কমিশন RO চেঞ্জ করেছে। তার মধ্যে ৮০ শতাংশই ২০১১ সালের থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে কাজ করেছে। এমন RO-র নাম আমি বলে দিতে পারি যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের PS হিসেবে কাজ করেছে। মমতার এতো ভয় কেন? নিজের বাড়ি, নিজের এলাকা, ৪০ বছর ধরে যেখানে রাজনীতি করেছে বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে কোনওরকম প্রশাসনিক ঝুঁকি নিতে নারাজ ঘাসফুল শিবির।
নির্বাচন কমিশন এই চিঠির প্রেক্ষিতে সুরজিৎ রায়কে সরিয়ে দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।
