Sona Pappu case
Bengal Liberty, Kolkata :
কসবার আলোচিত সোনা পাপ্পু কাণ্ডে ফের চাঞ্চল্য Sona Pappu case। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক বিশ্বজিৎ পোদ্দারের বিরুদ্ধে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন প্রশাসনিক ও আর্থিক যোগসূত্র। এবার সেই মামলায় হাওড়ার যুগ্ম কমিশনারকে নোটিস পাঠিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, এমনকি তলব করা হয়েছে আইপিএস অফিসার গৌরব লালকেও

তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রশাসনিক যোগসূত্র
ইডির তদন্ত এখন শুধু আর্থিক লেনদেনেই সীমাবদ্ধ নেই। সূত্রের দাবি, বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর সঙ্গে কারা কারা যোগাযোগ রেখেছিল, কার মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়েছে এবং কোন স্তরে প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়া গেছে সেই দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই কারণেই একাধিক পুলিশ আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এমনকি আইপিএস অফিসার গৌরব লালকেও তলব করেছে ইডি। পুলিশকর্তার ভূমিকা নিয়ে নির্দিষ্ট সময়কাল, পোস্টিং এবং আর্থিক নজরদারির বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
সূত্র অনুযায়ী, তিনি আগে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ছিলেন এবং বর্তমানে হাওড়া পুলিশে কর্মরত। তদন্তকারীদের দাবি, এই আর্থিক নেটওয়ার্কে তাঁর ভূমিকা কতটা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও তাঁর পক্ষ থেকে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইডি মনে করছে, পুরো বিষয়টি শুধু একজন ব্যবসায়ীর সীমিত কর্মকাণ্ড নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে একটি বিস্তৃত আর্থিক চেইন, যেখানে নির্মাণ, ক্যাশ ট্রানজাকশন এবং প্রভাবশালী যোগাযোগ একসঙ্গে কাজ করেছে। তদন্তকারীরা এখন একাধিক ব্যাংক ট্রানজাকশন, সম্পত্তির নথি এবং নগদ লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখছেন। প্রতিটি স্তরেই নতুন তথ্য মিলছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এক কোটি ৪৭ লক্ষ নগদ উদ্ধার
গত ১ এপ্রিল ইডি একযোগে আটটি জায়গায় তল্লাশি চালায়। সেই অভিযানে সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয় প্রায় ১ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা। এর পাশাপাশি প্রায় ৬৭ লক্ষ টাকার সোনা ও রুপোর গয়না বাজেয়াপ্ত করা হয়। একটি গাড়ি ও আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করে তদন্তকারীরা, যা মামলাকে আরও জটিল করে তোলে। ইডির সূত্র অনুযায়ী, কসবা ও বালিগঞ্জ এলাকায় নির্মাণ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চালাতেন সোনা পাপ্পু। অভিযোগ, বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হতো এবং সেই টাকা বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে পৌঁছে যেত। এই আর্থিক লেনদেনের জাল ধরেই এখন তদন্তকারীরা পরবর্তী ধাপে এগোচ্ছেন।
তদন্ত যত গভীর, তত বাড়ছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ
যত সময় এগোচ্ছে, ততই এই মামলা শুধু আর্থিক অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং প্রশাসনিক সংযোগ এবং প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের দিকেও ইঙ্গিত করছে তদন্ত। ফলে একদিকে যেমন পলাতক বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর খোঁজ চলছে, অন্যদিকে একের পর এক নতুন নাম যোগ হয়ে মামলাকে আরও বিস্তৃত করছে। সোনা পাপ্পুকে একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও তিনি এখনও তদন্তকারীদের নাগালের বাইরে। লাইভ লোকেশন বা সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতি নিয়ে চর্চা থাকলেও, আইনের সামনে তিনি অনুপস্থিত যা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলছে।
সব মিলিয়ে সোনা পাপ্পু কাণ্ড এখন কেবল একটি আর্থিক মামলা নয় বরং প্রশাসন, ব্যবসা ও প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য সংযোগ খতিয়ে দেখার একটি বড় তদন্তে পরিণত হয়েছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নাম ও নতুন প্রশ্ন।

