Bikash Ranjan Bhattacharya
Bengal Liberty, ১৭ এপ্রিল :
সংসদীয় রাজনীতিতে নীতি ও ব্যক্তিগত আদর্শের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা ও প্রখ্যাত আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)। সাংসদ হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী যে অবসরকালীন পেনশন পাওয়ার কথা, তা স্বেচ্ছায় গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার মহাসচিবকে লেখা এক চিঠিতে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন বর্ষীয়ান এই নেতা। ক্ষমতা বা প্রাপ্য সুবিধার ঊর্ধ্বে উঠে নীতির প্রতি দায়বদ্ধতার এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে (Bikash Ranjan Bhattacharya)।

প্রাপ্য ত্যাগে নীতির বার্তা বিকাশবাবুর (Bikash Ranjan Bhattacharya)
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই চিঠিতে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “একজন প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে যে পেনশন পাওয়া যায়, তা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি।” গত ২ এপ্রিল তাঁর রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সেই সময় থেকেই তাঁর পেনশন চালু হওয়ার কথা থাকলেও, সেই আর্থিক সুবিধা গ্রহণে সম্পূর্ণ অনীহা দেখিয়েছেন তিনি।
যদিও চিঠিতে সরাসরি কারণ উল্লেখ করেননি তিনি, তবুও রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত তাঁর দীর্ঘদিনের আদর্শ ও নৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন। কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে তিনি আর্থিকভাবে স্বনির্ভর। ফলে সরকারি কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়িয়ে নিজের প্রাপ্য ত্যাগ করার পথই বেছে নিয়েছেন। বামপন্থী রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে ‘ত্যাগের রাজনীতি’র এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবেই দেখছে।

রাজ্যসভা থেকে সরাসরি ময়দানে (Bikash Ranjan Bhattacharya)
২০২০ সালে বাংলা থেকে রাজ্যসভায় পা রেখেছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তবে বর্তমানে বিধানসভায় বামেদের কোনও আসন না থাকায়, এবারের রাজ্যসভা নির্বাচনে তাঁদের প্রতিনিধি পাঠানো সম্ভব হয়নি। রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হতেই তাই আর বিরতি নয়, সরাসরি নেমে পড়েছেন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ে। যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবার বামেদের অন্যতম ভরসা তিনিই। বয়স সাড়ে চুয়াত্তর পেরোলেও তাঁর প্রচারের তেজ ও কর্মোদ্যম যেন নতুন প্রজন্মকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাদবপুরের অলিতে-গলিতে ঘুরে ঘুরে সংগঠনকে চাঙ্গা করে তুলছেন তিনি। সিপিআই(এম)-এর ব্র্যান্ড মুখ হিসেবে বিকাশরঞ্জন এখন বামেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন।

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, তিনি শুধুমাত্র একজন প্রখ্যাত আইনজীবী বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি বঙ্গ সিপিআই(এম)-এর অন্যতম মুখ এবং দীর্ঘদিনের লড়াকু কণ্ঠস্বর। সারদা, নারদা থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতো একাধিক মামলায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের সামনের সারিতে থেকেছেন তিনি। আদালতের মঞ্চ হোক বা রাজনৈতিক ময়দান, দু’জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতি বরাবরই দৃঢ় ও প্রভাবশালী। তাঁর পেনশন ত্যাগের সিদ্ধান্তকে শুধু ব্যক্তিগত আদর্শের প্রকাশ নয়, বরং বাম শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের জন্য এক ধরনের মনোবল বৃদ্ধির উৎস এবং নির্বাচনের ঠিক আগে এই উদ্যোগ নতুন উদ্যমের সঞ্চার বলা যেতে পারে।
