Professors Election Duty
Bengal Liberty, ১৭ এপ্রিল :
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড়সড়ো ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন (Professors Election Duty)। সহকারী অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তে আপত্তি তুলে সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, অধ্যাপকদের পদমর্যাদা ও দায়িত্বের সঙ্গে এই নিয়োগ কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে কমিশন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে, কেন শুধুমাত্র অধ্যাপকদেরই এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী দায়িত্বে বেছে নেওয়া হল, সেই প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। ফলে আদালত এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকেই বাতিল করার নির্দেশ দেয় (Professors Election Duty)।

আদালতের হস্তক্ষেপে স্থগিত কমিশনের সিদ্ধান্ত (Professors Election Duty)
রাজ্যের সহকারী অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতেই বিষয়টি পৌঁছয় কলকাতা হাই কোর্টে। অধ্যাপকদের একাংশ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, বেতন ও পদমর্যাদার সঙ্গে এই ধরনের দায়িত্ব সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা তাঁদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মামলাটি ওঠে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে। শুনানির সময় আদালত লক্ষ্য করে, কেন অধ্যাপকদেরই এই দায়িত্বে পাঠানো হচ্ছে, তার কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তারপরই আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে সহকারী অধ্যাপকদের নিয়োগের ওই বিজ্ঞপ্তি আর কার্যকর থাকবে না।

আদালতের নির্দেশ (Professors Election Duty)
আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, যে সমস্ত সহকারী অধ্যাপক ইতিমধ্যেই প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে তাঁদের প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই রায় প্রযোজ্য হবে না। তাঁদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতেই হবে। তবে যাঁরা এখনও প্রশিক্ষণ নেননি, তাঁরা এই নির্দেশের ফলে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবেন। কলকাতা হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অধ্যাপকদের যোগ্যতা ও পদমর্যাদার বিষয়টি মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশন চাইলে তাঁদের অন্য কোনও উচ্চতর দায়িত্বে নিযুক্ত করতে পারে। কিন্তু প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে তাঁদের নিয়োগের যৌক্তিকতা প্রমাণ হয়নি।

কমিশনের যুক্তি (Professors Election Duty)
কমিশনের তরফে আদালতে জানানো হয়েছিল, রাজ্যে ৯০ হাজারেরও বেশি বুথ পরিচালনার জন্য বিপুল সংখ্যক আধিকারিক প্রয়োজন। সেই কারণেই অতীতে যেমন করা হয়েছে, তেমনভাবেই সহকারী অধ্যাপকদের এই দায়িত্বে আনা হয়েছে। তবে এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি কলকাতা হাই কোর্ট। অপরদিকে, আসন্ন ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যের ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে এবং ৪ মে ঘোষণা করা হবে ফলাফল। ভোটের ঠিক আগে প্রিসাইডিং অফিসারের ঘাটতি মেটাতে এখন নির্বাচন কমিশন কী নতুন পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
