Joka cash seizure
Bengal liberty desk, ২১ এপ্রিল, কলকাতা:
বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই শহরজুড়ে কড়া নজরদারি শুরু করেছে কমিশন Joka cash seizure। আর সেই নজরদারিতেই ধরা পড়ছে কাড়ি কাড়ি নগদ টাকা। দক্ষিণ কলকাতার বেহালা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ঠাকুরপুকুর থানার অন্তর্গত জোকা ট্রাম ডিপোর সামনে নাকা তল্লাশিতে ফের বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করল পুলিশ। কমিশনের এসএসটি (SST), স্থানীয় থানা এবং সিএপিএফ (CAPPF) জওয়ানদের যৌথ অভিযানে ফের সাফল্য মিলল।

টাকা উদ্ধারের ‘হ্যাটট্রিক’ জোকায় Joka cash seizure
জোকা ট্রাম ডিপো এলাকাটি যেন এখন টাকা পাচারকারীদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। গত ১৬ এপ্রিল এখানে নাকা তল্লাশির সময় একটি গাড়ি থেকে ৪ লক্ষ ৭৩ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সেই একই জায়গায় ধরা পড়ল আরও বড় অঙ্ক। সোমবার রাতে নাকা চেকিংয়ে ১১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৮৪২ টাকা উদ্ধার হওয়ায় চক্ষু চড়কগাছ পুলিশেরও। অল্প সময়ের ব্যবধানে জোকায় এই দফায় দফায় টাকা উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করছে যে, ভোটের বাজার গরম করতে একদল লোক কতটা মরিয়া হয়ে উঠেছে।
নাকা তল্লাশি ও রাজনীতির জলঘোলা:
ভোটের আগে নাশকতামূলক কাজ রুখতে এবং অবৈধ অস্ত্র ও টাকা পাচার বন্ধ করতে কমিশন মোড়ে মোড়ে নাকা বসাচ্ছে। কিন্তু এই তল্লাশি নিয়েই এখন সবথেকে বেশি গাত্রদাহ শুরু হয়েছে শাসক শিবিরের। তৃণমূলের দাবি ছিল, কমিশন নাকি বেছে বেছে শুধু তাঁদের নেতা-নেত্রীদেরই টার্গেট করছে। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর গাড়ি তল্লাশির ঘটনাকে সামনে রেখে তাঁরা একে ‘হেনস্থা’ বলে প্রচার করছেন। তৃণমূলের বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশন নাকি তাঁদের হয়রানি করার জন্যই এই নাকা চেকিংয়ের বন্দোবস্ত করেছে।

সন্দেহের ঊর্ধ্বে কি শুধুই তৃণমূল?
মজার বিষয় হলো, ভবানীপুর প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই প্রতিটি নির্বাচনী সভায় অভিযোগ করছেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী নাকি গাড়িতে করে বিজেপির জন্য টাকা পাঠাচ্ছে। এখন আমজনতার প্রশ্ন—মুখ্যমন্ত্রী যদি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সন্দেহের তালিকায় রাখতে পারেন, তবে তৃণমূলকে কেন শুরু থেকেই সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে? সেই গ্যারান্টিই বা কে দিয়েছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে যে ‘গাড়িতে টাকা পাচার’-এর তত্ত্ব তুলেছিলেন, আজ জোকায় উদ্ধার হওয়া এই ১২ লক্ষ টাকা কি সেই অভিযোগেরই বাস্তব প্রতিফলন নয়?
এই নিয়ে জোকায় পরপর দুবার টাকা উদ্ধারের ঘটনা, ১৬ এপ্রিল এবং ২০ এপ্রিল । আইন যখন সবার জন্য সমান, তখন নাকা তল্লাশিতে তৃণমূলের এত আপত্তি ছিল কেন ? জোকায় এই দফায় দফায় টাকা উদ্ধারই বুঝিয়ে দিচ্ছে, নাকা চেকিং না থাকলে এই কয়েক লক্ষ টাকা অনায়াসেই কোনো অদৃশ্য পকেটে পৌঁছে যেত।
