Foreign Affairs of Bangladesh
Bengal Liberty, নয়ন বিশ্বাস রকি,
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক:
বাংলাদেশ (Foreign Affairs of Bangladesh) আজ এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি—তিন ক্ষেত্রেই গভীর সংকট স্পষ্ট। জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে, পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসা একটি সরকারের অধীনে দেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি ও মৌলিক অধিকার আজ হুমকির মুখে।

বর্তমান বাস্তবতা: জনরায়হীন সরকার ও বৈদেশিক নির্ভরতা (Foreign Affairs of Bangladesh)
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তর্জাতিক পররাষ্ট্রনীতি বলতে কার্যত নিজস্ব কোনো অবস্থান নেই। নীতির দিকনির্দেশনা আসছে বাইরে থেকে, আর সরকার কেবল তা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট মহল সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রমুখী নীতিতে সক্রিয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সরকারের রিমোট কন্ট্রোল এখন ওয়াশিংটনের হাতে। বর্তমান সরকার ও সংসদের ভেতরের-বাইরের কুশিলবরা কার্যত একই সূত্রে গাঁথা এবং অনেকেই মনে করেন এরা সবাই সুনির্দিষ্ট একটি আন্তর্জাতিক এজেন্ডার সৃষ্টি।

একই সূত্রে গাঁথা তথাকথিত সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষ—আলী রিয়াজ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশ, জামায়াত-শিবির ও বিএনপির একটি অংশ মিলে একটি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা চলছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি আজ বিপর্যস্ত, কর্মসংস্থান সংকুচিত এবং জনগণের মৌলিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চরম সংকটে পড়েছে।
“ভারত দেশ নিয়ে গেছে”—এতদিন ধরে চলা এই প্রচারণা ছিল জনগণকে ভুল বোঝানোর একটি সস্তা রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। আজ বাস্তবতার আলোয় তা পরিষ্কার: দেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ এখন অন্য এক অদৃশ্য শক্তির হাতে চলে গেছে।
আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক দায়িত্ব (Foreign Affairs of Bangladesh)
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী দল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশ গঠন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আজ যখন দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে, তখন জনগণ স্বাভাবিকভাবেই তাকিয়ে আছে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের দিকে।

দেশরত্ন শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বই এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র ভরসা। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দৃশ্যমান অবকাঠামো উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অনন্য স্বীকৃতি অর্জন করেছিল।
আগামী দিনের করণীয়: বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন (Foreign Affairs of Bangladesh)
ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ: বাংলাদেশকে একমুখী নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে হবে। রাশিয়া, চীন, ভারত, ফ্রান্সসহ বিশ্বের অন্যান্য পরাশক্তি ও বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে, তবে তা হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে—কোনো শর্তাধীন দাসত্বের মাধ্যমে নয়।
জনগণের পাশে দাঁড়ানো: বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের মাঝে আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এই আস্থাকে ধরে রাখতে হলে দলকে রাজপথে ও মাঠে সক্রিয় থাকতে হবে। প্রতিটি ইউনিটকে সুসংগঠিত করে জনগণের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়াতে হবে। দলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করে তরুণ ও মেধাবীদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

বিভ্রান্ত ও প্রতারিত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা: আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের কোনো বিদ্বেষ নেই। তারা মূলত একশ্রেণির চক্রান্তকারীর দ্বারা প্রতারিত হয়েছে। আওয়ামী লীগকে তাদের ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে হবে এবং শিক্ষা খাতসহ প্রতিটি সেক্টরের প্রকৃত উন্নয়নের রূপরেখা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরা: “ভারত দেশ নিয়ে গেছে”—এই মিথ্যা ও বানোয়াট প্রচারণার বিরুদ্ধে তথ্য ও যুক্তি দিয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে। দেশ আগে বিক্রি হয়নি, কিন্তু এখন বিক্রির চক্রান্ত চলছে—এই নির্মম সত্যটি জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
উপসংহার (Foreign Affairs of Bangladesh)
প্রিয় দেশবাসী, একবার ঠান্ডা মাথায় ভাবুন—দেশ আজ কোথায় যাচ্ছে? কার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে আপনার ও আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ?
আজ এটি দিবালোকের মতো প্রমাণিত যে, দেশকে পরনির্ভরশীল করার চক্রান্ত চলছে। এই গভীর ষড়যন্ত্র রুখে দিতে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে এবং গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।
আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মী, নেতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীর এখন সময় এসেছে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তোলার। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথে আমরা আমাদের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনবই।
দেশ বাঁচলে, আমরা বাঁচব। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
আরও পড়ুন:
জিজ্ঞাসাবাদে অসহযোগিতা! সাড়ে ৩ মাসের লুকোচুরি শেষে অবশেষে ইডির জালে সোনা পাপ্পু
