Shantanu Sen Resignation
Bengal Liberty, ২৮ মে :
আরজি কর কাণ্ডে হাসপাতালের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলে একসময় তৃণমূলের অন্দরে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন (Shantanu Sen Resignation)। দলবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে সাসপেন্ড হওয়া থেকে মুখপাত্রের পদ হারিয়েছিলেন তিনি। যদিও পরে দল তাঁকে জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়, কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফের বেসুরো সুর শোনা যায় শান্তনুর কণ্ঠে। এবার নিজে থেকে পদ ছাড়লেন চিকিৎসক নেতা। সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে দলের জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শান্তনু সেন। ইস্তফা দিয়েই শান্তনুর বেসুরো কথা, “মন সায় না দিলেও সে সব করতে হচ্ছিল।” রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে তৃণমূলের অস্বস্তির পালে আরও এক ঝড়ের নাম এখন শান্তনু সেন (Shantanu Sen Resignation)।

বেসুরো সুর অনেক আগে থেকেই বাজছিল (Shantanu Sen Resignation)
গত কয়েক দিন ধরেই তৃণমূলের অন্দরে শান্তনু সেনকে ঘিরে বাড়ছিল জল্পনা। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন তিনি, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দেয় এবং তৃণমূলের অস্বস্তিও বাড়ায়। এরপর আরজি কর কাণ্ড নিয়ে সরব হয়ে শান্তনু জানান, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে নতুন সরকারকে সবরকম সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত। সেই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠিয়ে দলের জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। যদিও দল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করেছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি।

কেন হঠাৎ পদ ছাড়লেন শান্তনু? (Shantanu Sen Resignation)
‘”মানুষ যখন আরজি কর-কাণ্ড, চাকরি বিক্রি ও একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে আমাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন আর মুখপাত্র হিসেবে সেই সবকে সমর্থন করার মানসিকতা আমার নেই”, ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে এরকমই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন শান্তনু সেন। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন দলের হয়ে বহু বিতর্কিত ইস্যুতে প্রকাশ্যে লড়াই করতে হলেও অনেক সময় ব্যক্তিগতভাবে তিনি সেই অবস্থানের সঙ্গে একমত ছিলেন না। তবুও দলীয় দায়িত্বের কারণেই তাঁকে সেই ভূমিকা পালন করতে হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা চিঠিতে শান্তনু জানান, তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই তিনি অনুগত সৈনিক হিসেবে কাজ করেছেন এবং দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেছেন। একইসঙ্গে দলের হয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য মমতার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন কঠিন সময়ে নিজের মন সায় না দিলেও বহু বিতর্কিত বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে দলের হয়ে লড়াই করেছি। কিন্তু এখন মানুষ যখন আরজি কর-কাণ্ড, চাকরি বিক্রি-সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ ও দুর্নীতির জন্য আমাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই অবস্থায় আমার মন কোনও ভাবেই মুখপাত্র হিসাবে এগুলোকে সমর্থন করার সম্মতি দিচ্ছে না।” তাই মানুষের সেই রায়কে সম্মান জানিয়েই তিনি দলের সর্বভারতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


