Lakshmir Bhandar Scam
Bengal Liberty, 29 May:
কথায় বলে, ‘লক্ষ্মী চঞ্চলা’! কিন্তু মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে ‘লক্ষ্মী’ কেবল চঞ্চলাই নন, তাঁর একেবারে গোঁফ-দাড়িও রয়েছে! আজ্ঞে হ্যাঁ! মহিলাদের শাড়ির আঁচল নয়, প্যান্টের পকেটে দিব্যি ঢুকছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সরকারি টাকা! রাজ্য সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় এবং মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে চালু হওয়া এই প্রকল্পে এবার এমনই এক বেনজির জালিয়াতির পর্দাফাঁস করল পুলিশ (Lakshmir Bhandar Scam)। নাম ভাঁড়িয়ে এবং নিজের লিঙ্গ পরিচয় সুকৌশলে গোপন করে দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা হাতানোর অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এক পুরুষ হোটেল ব্যবসায়ী। এই দুঃসাহসিক প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জেলাজুড়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে (Lakshmir Bhandar Scam)।

অভিনব জালিয়াতির ছক (Lakshmir Bhandar Scam)
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম রাকিবুল শেখ। তিনি বহরমপুরের রাধারঘাট এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন হোটেল ব্যবসায়ী। অভিযোগ, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নিজের পরিচয় এবং লিঙ্গ গোপন করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের তালিকায় নিজের নাম নথিভুক্ত করেছিলেন তিনি। শুধু নাম তোলাই নয়, দিনের পর দিন মহিলাদের জন্য বরাদ্দ সরকারি এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধাও নিজের পকেটে পুরে আসছিলেন ওই ব্যক্তি।

প্রশাসনের কড়া নজরেই বিপত্তি (Lakshmir Bhandar Scam)
দীর্ঘদিন ধরে এই জালিয়াতি চললেও, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে ভুয়ো উপভোক্তা বা ‘ফেক বেনিফিশিয়ারি’ চিহ্নিতকরণের কাজ জোরকদমে শুরু হয়। প্রশাসন কড়া নজরদারির জাল বিছাতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে রাকিবুলের প্রতারণার চক্র। স্ক্রুটিনি বা যাচাই প্রক্রিয়ার সময় নথিপত্র এবং তথ্যের চরম অসঙ্গতি ধরা পড়তেই আধিকারিকদের চক্ষু চড়কগাছ! এরপরই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ গ্রহণ করে বহরমপুর থানার পুলিশ ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারির পর অভিযুক্ত রাকিবুলকে বহরমপুর আদালতে পেশ করে পুলিশ। তদন্তের গভীরে পৌঁছতে এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কোনও অসাধু মাথা জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। অন্যদিকে, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ধৃত নিজেকে ‘নির্দোষ’ বলে দাবি করেন এবং তাঁর আইনজীবী জামিনের জোরালো আর্জি জানান। কিন্তু বিচারক সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়ে অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।


