Panchasayar Case
Bengal Liberty, ২৯ মে :
বাইরে থেকে দেখলে আর পাঁচটা সাধারণ দলীয় কার্যালয় (Panchasayar Case)। কিন্তু ভেতরের দৃশ্য একেবারেই আলাদা। এ যেন আস্ত এক চোরাই মালের গোডাউন। শুক্রবার এমনই চাঞ্চল্যকর দৃশ্যের সাক্ষী থাকল পঞ্চসায়র এলাকা। তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকা পার্টি অফিসের ভেতর থরে থরে সাজানো ট্রাঙ্ক খুলতেই বেরিয়ে এল সরকারি ত্রাণের পাহাড়, ভিন জেলার জমির রাশি রাশি দলিল, লক্ষাধিক টাকার সই করা ফাঁকা চেক, আর সব চেয়ে চমকপ্রদ, আগ্নেয়াস্ত্র কেনার রসিদ! কার্যালয়টির দখল নিয়ে বারবার রং বদলের ইতিহাস আছে। ২০২০ সালে সিপিএমের হারিয়ে যাওয়া কার্যালয় ফের জবরদখল করতে গিয়েই এই কার্যকলাপ সামনে আসে। এখন এই কালো রাজনীতির শিখরে কে? উত্তর খুঁজছে পুলিশ (Panchasayar Case)।

কী নেই ট্রাঙ্কে! (Panchasayar Case)
পঞ্চসায়র থানা এলাকার ওই কার্যালয়ে বড় বড় ট্রাঙ্ক মজুত ছিল। পুলিশ ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এর মধ্যে মাত্র একটি ট্রাঙ্ক খোলা হয়। আর তাতেই চক্ষু চড়কগাছ! ট্রাঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসে বিষ্ণুপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত, রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা, হাওড়ার বালি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকার অগনতি জমির দলিল ও মিউটেশনের শংসাপত্র। শুধু জমি নয়, মিলেছে সাধারণ মানুষের আধার, ভোটার ও প্যান কার্ডের মতো অতি গোপনীয় ব্যক্তিগত নথি। এখানেই শেষ নয়, কার্যালয়ের ভেতরেই মজুত ছিল রাজ্য সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের লোগো লাগানো বিপুল পরিমাণ ত্রিপল, অক্সিজেন সিলিন্ডার, কনসেন্ট্রেটর, রান্নার সরঞ্জাম এবং পুরসভার দেওয়া ডাস্টবিন। সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ কীভাবে দলীয় কার্যালয়ে দিনের পর দিন মজুত রইল, তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।

ক্রমশ ঘনীভূত রহস্য (Panchasayar Case)
দুর্নীতির এই হিমশৈলের চূড়ায় সবচেয়ে বড় চমকপ্রদ বিষয় হল একটি বন্দুক কেনার রসিদ। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ট্রাঙ্ক থেকে পল্লব কান্তি ঘোষ নামক এক ব্যক্তির নামে আগ্নেয়াস্ত্র কেনার একটি রসিদ উদ্ধার হয়েছে, যাকে স্থানীয়রা তৃণমূলের নেতা বলেই চেনেন। এর পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার সই করা বেশ কিছু ফাঁকা চেক। যার মধ্যে ভেনাস কনস্ট্রাকশনের তরফ থেকে দেওয়া ৫ লক্ষ টাকার একটি চেকের হদিস তদন্তকারীদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। অন্যদিকে, ট্রাঙ্কগুলির গায়ে ‘জয় হিন্দ বাহিনী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা, তৃণমূল কংগ্রেস’ লেখা লোগো এবং আনুষঙ্গিক নথিপত্র প্রমাণ করছে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এখানে চলত এক বিশাল অবৈধ কারবার।

এই দুর্নীতির কাঠগড়ায় কারা? (Panchasayar Case)
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি, যার মূলে রয়েছে এই কার্যালয়টির হাতবদলের এক চমকপ্রদ ইতিহাস। জানা গেছে, এই পার্টি অফিসটি আদতে ছিল সিপিআইএমের। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের ডামাডোলে তৃণমূল কংগ্রেস সেটি জোরপূর্বক দখল করে নেয় এবং দীর্ঘ সময় সেটি শাসকদলের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। তবে সাম্প্রতিককালে সমীকরণের পরিবর্তনে সিপিআইএম পুনরায় তাদের এই পুরনো কার্যালয়টি নিজেদের দখলে নিয়েছে। আর এখানেই ঘনীভূত হয়েছে রহস্য! এই বিপুল বেআইনি সামগ্রী ও নথিপত্রের আসল মালিক কে? তৃণমূল যখন এটি দখল করে রেখেছিল, তখন কি এই ‘পাপের সাম্রাজ্য’ গড়ে উঠেছিল, নাকি সিপিআইএমের আমলেরও কিছু যোগসূত্র এর মধ্যে রয়েছে? উত্তর দেবে সময়।


