Greatest Moments in World Cup History
Bengal Liberty, ২৯ মে ২০২৬: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ কে কেন্দ্র করো ফুটবল অনুরাগীদের মধ্যে একটা অন্যরকম উন্মাদনা জন্ম নিয়েছে। প্রতিটি বিশ্বকাপের ক্ষেত্রেই একই দৃশ্য দেখা যায় (Greatest Moments in World Cup History)।
তবে, একবারেরটা বিশ্বকাপ অন্য সকল বিশ্বকাপের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। প্রথমেই তিনটি আয়োজক দেশ ২০০২-এর ফুটবল বিশ্বকাপ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যুগ্ম আয়োজকের দায়িত্ব সামলেছিল। কিন্তু এবারে কানাডা, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তিনটি দেশ মিলে এতো বড় মেগা ইভেন্ট পরিচালনা করবে।

কেন ঐতিহাসিক? (Greatest Moments in World Cup History)
সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৪৮টি দল যদি এই কনসেপ্ট সফল হয় তবে পরের বিশ্বকাপ গুলিতে ৬৪ দল ও অংশগ্রহণ করতে পারে। এরই সাথে এক লাপে ম্যাচের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪ যা এক কোথায় সত্যি অসাধারণ। সঙ্গে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এমন একটি futuristic বল বানানো হয়েছে যাতে চিপের দরকার পড়বে আডিডাসের ট্রিওন্ডা এক নতুন যুগের সৃষ্টি করলো (Greatest Moments in World Cup History)।

মুহূর্তের শুভ সূচনা (Greatest Moments in World Cup History)
এই সবের মধ্যে একটি ব্যাপার বিশ্বকাপ ফুটবলের মান কে অন্য জায়গায় পৌঁছেদেয় সেটা হচ্ছে। এমনকিছু রোমাঞ্চকর স্মরণীয় মুহূর্ত যা সমর্থকদের মনে গবীর প্রবাব ফেলে। যখনি বিশ্বকাপ কে নিয়ে কথা হয় তখনি ওইসব দুর্দান্ত অসাধারণ মুহূর্ত ফুটবল প্রেমীদের গায়ে কাঁটা দিয়ে যায় (Greatest Moments in World Cup History)। সে ব্রাজিলের পর পর দু বার বিশ্বকাপ জেতা হোক কিংবা দিয়েগো মারাদোনার ” হ্যান্ড অফ গড ” বিতর্কিত গোল বা মেসি বনাম পুরো নেথেরল্যান্ডস দল। প্রত্যেকটি মুহূর্ত স্মরণীয় ও চিরস্থাহী। তবে আসুন ফের একবার ইতিহাসের পাতায় চোখ মেলে দেখা যাক কোন কোন মুহূর্ত গুলি ফুটবল বিশ্বকাপের সেরা মুহূর্তের তালিকার মধ্যে নিজের জায়গা করে নিয়েছে।
স্মরণীয় সেরা দশটি মুহূর্ত (Greatest Moments in World Cup History)

১. মেসির বিশ্বকাপ জয়: কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল প্রতিযোগিতা দুই সেরা দল। একদিকে ছিল কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স আর অন্যদিকে এলএম১০ এর আর্জেন্টিনা। মেগা ফাইনালের প্রতিটি মুহূর্ত রোমাঞ্চকর অনুভূতির সৃষ্টি করেছে শেষ অবধি একাই লড়াই চালিয়েছে এমবাপে (Greatest Moments in World Cup History)। রুদশ্বাস পেনাল্টি শুটআউটে ফ্রান্স কে পরাজিত করে তৃতীয় বারের জন্য বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। সেইদিন হয়ত ভগবানের আশীর্বাদ মেসির উপরেই ছিল। আর সেই জয়ের প্রধান কান্ডারি ছিল লিওনেল মেসি।

২. জার্মানির তান্ডব লীলা: ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের প্রথম সেমি ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলো আয়োজক ব্রাজিল ও শক্তিশালী জার্মানি। নেইমার কে ছাড়াই ব্রাজিল কে ৭-১ এক গোলে ধ্বংস করে দিয়েছিলো তোমাস মুল্লাররা। চোখের জ্বলে হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়েই ব্রাজিলের বিশ্বকাপের স্বপ্ন চুরমার হয়েযায়।

৩. রিভেঞ্জ অফ আর – নাইন: ১৯৯৮ এর বিশ্বকাপে ফাইনালে শক্তিশালী ব্রাজিলিয়ান দল কে ৩-০ গোলে হারিয়ে ঘরের মাঠে সেরার হয়েছিল জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স। তবে সেই ম্যাচ কে কেন্দ্র করে একটি বিতর্ক আছে বলা হয় ম্যাচের আগে আর – নাইন ওরপে রোনাল্ডো নাজারিও জলে কিছু মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাই নাকি গোটা ম্যাচে রোনাল্ডো কে খুবই ক্লান্ত দেখায় (Greatest Moments in World Cup History)। সেই ফাইনালের প্রতিশোধ রোনাল্ডো ২০০২ এর বিশ্বকাপে ব্রাজিল কে ট্রফি জিতিয়ে মুখের উপর জবাব দিয়েছিলেন তাঁর সমালোচকদের।

৪. পেলের রাজকীয় অভিষেক: এডসন আরন্তেস দো নাসিমেন্টো ওরপে ফুটবলের সম্রাট নামে পরিচিত পেলে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপের ফাইনালে আয়োজক দেশের বিরুদ্ধে গোল করে বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তুলেছিলেন। শুধু একবার নয় পর পর দুবার একটি কৃতিমান স্থাপন করেছিলেন ফুটবলের সম্রাট ১৯৫৮ প্রতিপক্ষ সুইডেন ও ১৯৬২ প্রতিপক্ষ চেকোস্লোভাকিয়া।

৫. মারাদোনার হ্যান্ড অফ গড: ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার – ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে রুকে দাঁড়িয়েছিল দিয়েগো মারাদোনার আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচ আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে জিতে নেই (Greatest Moments in World Cup History)। তবে সেই ম্যাচেই একটি বিতর্ক হয়েছিল যা আজও ফুটবল অনুরাগীদের স্মরণে আছে। মারাদোনার গোলরক্ষকের সঙ্গে ” হ্যান্ড অফ গড” মুহূর্ত আর তারপরেই ইংল্যান্ডের রক্ষণ কে চুরমার করে দিয়ে শতাব্দীর সেরা গোল করেন ফুটবলের জাদুকর।

৬. উরুগুয়ে বনাম ঘানা: ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার – ফাইনাল মুখোমুখি উরুগুয়ে ও ঘানা (Greatest Moments in World Cup History)। ১-১ স্কোরলাইন অতিরিক্ত সময়ে লুইজ সুয়ারেজের হাতে বল পেনাল্টি। ঘানার মাইকেল এসিয়েনের পেনাল্টি মিস খেলা ওখানেই শেষ। শেষ অবধি পেনাল্টি শুটআউটে উরুগুয়ের জয়, ম্যাচের খলনায়ক মাইকেল এসিয়েন।

৭. জার্মানির বিরুদ্ধে জাপানের রাজকীয় জয়: কাতার বিশ্বকাপের মঞ্চে এশিয়ান জায়ান্টস ইউরোপিয়ান পাওয়ারহাউস কে কার্যত হেলায় হারিয়েছিল। ১-০ গুন্দোয়ানের গোলে এগিয়ে গিয়েও। জাপানের অপ্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তনের জেরে ২-১ গোলে স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছিল রাইসিং সুন শিবির।

৮. জিদানের হেডবাট: ২০০৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি ফ্রান্স ও ইতালি। সঙ্গে লড়াই দুই কিংবদন্তী খেলোয়াড়দের জিদান বনাম বুফন। ১-১ গোলে চলছিল ম্যাচ হঠাৎ ইঙ্গামার পরিবর্তে মাঠে আসে মার্কো মাতেরাৎসি। জিদানের কানে কি যেন একটা বললেন বেশ তারপরেই চূড়ান্ত নাটক। জিদানের হেডবাট মাতেরাৎসি মাঠেই ঘায়েল রেফারির লাল কার্ড জিদান মাঠের বাইরে ইতালির দখলে চতুর্থ বিশ্বকাপ। মজার ব্যাপার সেখান থেকেই ইতালির বিশ্বকাপের মঞ্চে অভিশাপের শুরু।

৯. ইনিয়েস্তার বন্ধুর জন্য জয়: ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলো স্পেন বনাম নেথেরল্যান্ডস। পুরো ম্যাচ জুড়ে চূড়ান্ত লড়াই চলছে। ১১০ মিনিট অতিক্রান্ত তবুও কোনো গোল হয়নি। তখনি হঠাৎ করেই গোলের সুযোগ পেয়ে গোল করেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। জার্সি খুলে আনন্দ করার সময় সেখানে লেখা ছিল – ” ভালো থেকো বন্ধু ” সেই গোলের সুবাদেই স্পেনের দল প্রথম বারের জন্য সেরার সেরা হয়। বিশ্বকাপের কয়েকদিন দিন ইনিয়েস্তার বন্ধু দানিয়েল জার্কে খুব অল্প বয়সেই তাঁর মৃত্যু হয়। সেই মৃত্যু কে অতিক্রম করে বন্ধুর উদ্দেশ্য সেরা উপহার তুলেদেন কিংবদন্তী এই খেলোয়াড়।

১০. রজার মিলারের নৃত্য: ১৯৯০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ গ্রুপ – বি তে মুখোমুখি হয়েছিলো তারকা সমৃদ্ধ আর্জেন্টিনা ও অনামী ক্যামেরুন সেই ম্যাচে অপ্রত্যাশিত ভাবে আর্জেন্টিনা কে ১-০ গোলে পরাজিত করে ক্যামেরণ। তাঁর থেকেও বড় কথা ওই ম্যাচেই গোল করেন ৩৮ বছরের রজার মিলার। আর গোল করে তাঁর সেই স্মরণীয় নৃত্য প্রদর্শন আজও ফুটবল অনুরাগীদের স্মরণে আছে।
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি এই বিশ্বকাপ কে কেন্দ্র করে। এমনিতেই উত্তেজনা, উন্মাদনা ২০০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। তাই এবারের বিশ্বকাপের মঞ্চে আর কি কি নয়া মুহূর্তের আবির্ভাব ঘটে সেই দিকেই নজর থাকবে গোটা বিশ্বের।

