North Bengal Monsoon
Bengal Liberty, ২৯ মে :
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বঙ্গে বর্ষা আসতে এখনও প্রায় অনেক দেরি (North Bengal Monsoon)। এত তাড়াতাড়ি গরমের অস্বস্তি থেকে মুক্তি মিলবে না কারোরই। তারই মধ্যে উত্তরবঙ্গের জন্য বর্ষার আগাম প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছরে পাহাড়ে ধস এবং হড়পা বানের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্মৃতি উত্তরবঙ্গবাসীর কাছে এখনও টাটাকা। তাই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় রুখতে এবং জনজীবন ও সম্পত্তি রক্ষার্থে গত বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আগেভাগে কোমর বাঁধছে নবান্ন। বর্ষা আগমনের আগেই পাহাড়ের বিপর্যয় মোকাবিলা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। ধসপ্রবণ এলাকাগুলিতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে এবং ব্লক ও জেলা স্তরে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে কাঠফাটা গরমের মরসুম থেকেই (North Bengal Monsoon)।

বর্ষার আগেই পাহাড়ে সুরক্ষার বলয় (North Bengal Monsoon)
বর্ষা নামার আগেই পাহাড়ি এলাকাগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে নবান্ন। প্রশাসনের কাছে এবার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধসপ্রবণ এলাকাগুলিকে আগে থেকেই চিহ্নিত করা। বিশেষ করে জাতীয় সড়ক ও পাহাড়ি সংযোগকারী রাস্তাগুলির যেসব অংশে অতীতে বারবার ধস নেমেছে, সেখানে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে ধস নামলেও যাতে দ্রুত রাস্তা পরিষ্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা যায়।উত্তরবঙ্গের প্রাণরেখা ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক-সহ পাহাড়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই রাস্তাগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলায় আগে থেকেই তৈরি রাখা হচ্ছে বিস্তারিত ব্লু-প্রিন্ট। এনডিআরএফ ও এসডিআরএফের মতো বাহিনীকে তৎপর রাখা হচ্ছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা যায়।
শুধু উদ্ধার নয়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলিতে আগাম ত্রাণ সামগ্রী, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রাখার কাজও শুরু হয়েছে। কারণ গত বছরের ভয়াবহ বিপর্যয়ে ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি প্রশাসনকে বড় ধাক্কা দিয়েছিল। আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখেই এবার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না রাজ্য সরকার। তাই বর্ষার মেঘ ঘনিয়ে আসার আগেই পাহাড়কে সুরক্ষার ঢালে মুড়ে ফেলতে তৎপর প্রশাসন।

বিগত বছরের ক্ষত এখনও বেশ তাজা (North Bengal Monsoon)
গত বছরের অক্টোবরের সেই ভয়াবহ দুর্যোগ এখনও উত্তরবঙ্গের মানুষের স্মৃতিতে দগদগে ক্ষতের মতো রয়ে গিয়েছে। টানা তিন দিনের অতি ভারী বর্ষণে সিকিম, দার্জিলিং-সহ গোটা পাহাড়ি উত্তরবঙ্গ কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। পাহাড়জুড়ে একের পর এক ধস নেমে ভেঙে পড়ে স্বাভাবিক জনজীবন। ভয়ঙ্কর রূপ নেয় তিস্তা নদীও। জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দুধিয়া ও বিজনবাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল একাধিক এলাকা। বন্ধ হয়ে যায় সিকিমের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ১০ নম্বর জাতীয় সড়কও। প্রকৃতির সেই তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ১৪ জন। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সাক্ষী ছিল মিরিক ও সুখিয়া পোখরি। ধস, বন্যা এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার জেরে বহু মানুষ দীর্ঘ সময় কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আগাম সতর্ক প্রশাসন। অতীতের বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি রুখতে বর্ষা নামার আগেই পাহাড়ে জোরদার প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন।


