Abhishek Banerjee
Bengal Liberty, ৩০ মে :
আমজনতার টাকায় কেনা দামি বিদেশি গাড়ির এসির হাওয়া ছেড়ে হঠাৎই তিনি নেমেছিলেন রাস্তায় (Abhishek Banerjee)। উদ্দেশ্য ছিল ‘জনসংযোগ’। কিন্তু সোনারপুরের কামারগাজী মোড়ে আসতেই সেই সংযোগ যে এমন ‘ধুন্ধুমার’ রূপ নেবে, তা হয়তো অতি-আত্মবিশ্বাসী তথাকথিত যুবরাজ কল্পনাও করতে পারেননি। লাখ টাকার চশমা উধাও, সত্তর হাজারি শখের জামাটাও ছিঁড়ে ফালাফালা! ঠিক এই হালই হলো তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড তথা ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। জনতার তাড়া খেয়ে, কালো পতাকা আর ডিম-জুতো-ইটের বৃষ্টি বাঁচিয়ে অবশেষে মাথায় হেলমেট গলিয়ে যখন তিনি পালাতে পেরেছেন, তখন তাঁর ওই ছেঁড়া জামা আর হারিয়ে যাওয়া লক্ষ টাকার চশমাটাই যেন আজকের পশ্চিমবঙ্গের আসল রাজনৈতিক চালচিত্রটা বুঝিয়ে দিল। যে রাজ্যে কোটি কোটি বেকার যুবক সামান্য কয়েক হাজার টাকার চাকরির আশায় বসে কাঁদে, সেখানে ‘জননেতা’র গায়ে ৭০ হাজার টাকার জামা আর চোখে লাখ টাকার চশমা (Abhishek Banerjee)!

দুর্নীতির ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ (Abhishek Banerjee)
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই বিলাসিতা অবশ্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখন চারিদিকে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ পাহাড়ের মতো জমছে, তখন এই বৈভব যেন সাধারণ মানুষের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো কাজ করছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইডি এবং সিবিআই -এর মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির অভিযোগের তালিকাটা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। গরু পাচার মামলা থেকে শুরু করে কয়লা কেলেঙ্কারি, প্রতিটা বড় আর্থিক তছরুপের তদন্তের সুতো গিয়ে মিলছে তৃণমূলের অন্দরমহলে। হাজার হাজার কোটি টাকা বেআইনিভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে, যার মধ্যে বারবার একটা নাম ঘুরে ফিরে আসছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, তদন্ত এড়ানোর মরিয়া চেষ্টা। কখনও রক্ষাকবচ, কখনো সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া। কিন্তু এত ফাঁকি দিলেও, জনতার আদালতকে যে এত সহজে ফাঁকি দেওয়া যায় না, সোনারপুরের কামারগাজী মোড় তার জলজ্যান্ত প্রমাণ দিল।

ছেঁড়া জামায় হারিয়ে গেল বিশ্বাস (Abhishek Banerjee)
তৃণমূল সাংসদকে বাঁচতে নিরাপত্তারক্ষীদের একটা সাধারণ হেলমেটের শরণাপন্ন হতে হলো। যে দল অহঙ্কার করে বলত ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ বা ‘জনগণ আমাদের সাথে’, তাদের শীর্ষনেতাকে আজ হেলমেট পরে মুখ লুকিয়ে নিজের রাজ্যের রাস্তা পার হতে হচ্ছে! ৭০ হাজার টাকার জামা হয়তো তিনি আবার কিনে নেবেন, ১ লাখ টাকার চশমাও তাঁর কাছে নস্যি। কিন্তু সোনারপুরের রাস্তায় শাসকদলের অহঙ্কার এবং আমজনতার বিশ্বাস যে ধুলোয় মিশে গেল, তা কি আর কোনো ‘ব্র্যান্ডেড’ বিজ্ঞাপনে ফেরত আনা সম্ভব?


