Sajal Ghosh
Bengal Liberty, ৩ জুন :
এক সময়ের ছাত্রনেতা সজল ঘোষের দাপটে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেত। বাম এবং কংগ্রেস নেতাদের এক টেবিলে বসিয়ে রাখার ক্ষমতা রাখতেন এই নেতা। কালের নিয়মে মেজাজ ঠান্ডা হলেও ফের পুরোনো ফর্মে ফিরে এলেন বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ(Sajal Ghosh)। সুরেন্দ্রনাথ কলেজের কালোবাজারির ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন। এবার তা আদ্যপান্ত প্রমাণিত হতেই দেখা গেল আগের সজল ঘোষকে (Sajal Ghosh)। কিছুদিন আগেই তিনি বলেছিলেন, “সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদে শুধু ফাংশনের নামে কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।” মঙ্গলবার সেই কলেজের কালো কারনামা সামনে আসতেই দাপুটে নেতা বললেন, “এই কলেজের গরিমা ধ্বংস হল।”

সুরেন্দ্রনাথ কলেজের কালো কারনামা (Sajal Ghosh)
সুরেন্দ্রনাথ কলেজ তৃণমূল ছাত্রনেতাদের দাপটের কথা অজানা নয়। এবার সেই কলেজের ইউনিয়ন রুমের আলমারি থেকেই উদ্ধার হল লক্ষ লক্ষ উই ধরানো টাকা। ছাদের উপর ছড়ানো ছেটানো মদের বোতল। কলেজের ভিতর একটি নয় দুটি আলিশান বেডরুম, বেডরুমের সঙ্গে অ্যাটাচড টয়লেট। কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই ঘরগুলির চাবি তৃণমূল ছাত্রনেতাদের কাছেই থাকত। পাশাপাশি সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ চলত বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। এই সম্পূর্ন ঘটনায় কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলেজে বন্ধ ছাত্র সংসদের নির্বাচন (Sajal Ghosh)
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদের নির্বাচন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই বিষয়ে আদালতে মামলাও করা হয়। করোনাকালে সময়ের থেকে ওই নির্বাচন করার পরিস্থিতি ছিল না বলে দাবি করেছিল সেই সরকার। একসময় ছাত্র সংসদও ভেঙে দেওয়া হয়েছিল কলেজগুলিতে। তবে তৃণমূলের ছাত্রনেতারা কলেজগুলির ক্ষমতাতেই জাঁকিয়ে থাকত বলে অভিযোগ। তারই প্রত্যক্ষ প্রমাণ আজকের সুরেন্দ্রনাথ কলেজ। এই ছাত্র নেতাদের এতটাই দাপট ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগমনে বিদ্যাসাগর কলেজের বিদ্যাসাগরের মূর্তি ধুলিস্মাৎ করে দেয়। নাম হয় বিজেপির, কিন্তু আসল দোষীকে বুঝতে কারও সময় লাগেনি। এরকম একাধিক ঘটনা চোখের সামনে থাকলেও না দেখার ভান করে থাকত সকলেই।

পুরোনো ফর্মে সজল (Sajal Ghosh)
মঙ্গলবারের সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ঘটনায় সবকিছু দেখেশুনে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর কথায়, “যা যা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন তা টিপস অফ দ্য আইসবার্গ নয়, তার থেকেও বেশি কিছু। এদের বাৎসরিক অনুষ্ঠানে খরচ হয় কোটি কোটি টাকা। প্রচুর লুঠ করা টাকা। এর পিছনে পুরো মাথা দাদা বৌদি।” ইতিমধ্যেই সুরেন্দ্রনাথ কলেজে টাকা উদ্ধার নিয়ে একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। একইসঙ্গে কলেজের প্রিন্সিপালকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার নিয়ে আগের এফআইআর-এর সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।



