Sa Vs Mex Match Review
Bengal Liberty, ১২ জুন ২০২৬ : দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান।(Sa Vs Mex Match Review) বিগত চার বছর ধরে বিশ্বের ফুটবল অনুরাগীরা এই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় ছিলেন। ১৮ ডিসেম্বর ২০২২-এর পর ১১ জুন ২০২৬; নানা টালবাহানা ও সমস্ত বাধা পেরিয়ে অবশেষে পর্দা উঠল “দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ”-এর। উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকো এবং দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরে আসা দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৬ বছর আগে এই দুই দলের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল, ফলে এবার ড্রয়ের সেই গেরো কাটিয়ে জয়ের স্বাদ পেতে মরিয়া হয়েই মাঠে নেমেছিল মেক্সিকো।

২৩তম ফিফা বিশ্বকাপের শুভ সূচনায় মেক্সিকোর এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়াম যেন পরিণত হয়েছিল এক চাঁদের হাটে। কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোস, কাফু, দুঙ্গা থেকে শুরু করে ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো— সবাই উপস্থিত ছিলেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই গ্যালারিজুড়ে দেখা যায় সবুজ জার্সির চাদর। মেক্সিকান সমর্থকদের এই উন্মাদনা ও উত্তেজনা সব শ্রেণির মানুষকে এক সুতোয় বেঁধেছিল।
ম্যাচের শুরুতেই মেক্সিকোর দাপট(Sa Vs Mex Match Review)
জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দুই দলই মাঠে নামে। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই ফুটবলপ্রেমীরা এক পেশীশক্তি ও গতির লড়াইয়ের সাক্ষী হলেন। প্রথম দশ মিনিটের মাথাতেই জে. কিনিয়োনেসের দুর্দান্ত এক গোল দিয়ে খাতা খোলে স্বাগতিক দেশ। মেক্সিকোর আক্রমণাত্মক ও গোছানো ফুটবলের সামনে শুরুতেই ছিটকে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে প্রথম গোলের পরেই ম্যাচ কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলে। মাঠে অতিরিক্ত ফাউল, অযথা সময় নষ্ট এবং রেফারির বারবার খেলা থামানোর কারণে গ্যালারির দর্শকরাও কিছুটা স্তব্ধ হয়ে পড়েন।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই ব্যর্থতা(Sa Vs Mex Match Review)
প্রথমার্ধে মাঝারি মানের ফুটবল প্রদর্শনের পর দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চেনা ছবির কোনো পরিবর্তন হয়নি। পাসিং, শুটিং, বল নিয়ন্ত্রণ কিংবা বল ক্লিয়ারেন্স— মাঠের প্রতিটি বিভাগেই দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে মাইলের পর মাইল এগিয়ে ছিল মেক্সিকো। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে আর. জিমেনেজের চমৎকার এক হেডে আসে মেক্সিকোর দ্বিতীয় গোল। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর মেক্সিকোর জয় তখন কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
এর মধ্যেই মাঠে বারবার ছড়ায় উত্তেজনা। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান দলটির খেলা দেখে মনে হয়েছে, ২০১০ সালের বিশ্বকাপের দলটি এদের চেয়ে ঢের ভালো ছিল। আধুনিক (৪-২-৩-১) ফরমেশনে খেলেও চূড়ান্ত ব্যর্থ হলেন আফ্রিকান ফুটবলাররা। এমনকি ম্যাচের ৯২ মিনিটেও (ইনজুরি টাইমে) দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুসকে সাইডলাইন থেকে সেট পিস নিয়ে মরিয়া নির্দেশনা দিতে দেখা গেছে, যা প্রমাণ করে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়ার কতটা অভাব ছিল।

ম্যাচ যখন মেক্সিকোর পকেটে, ঠিক তখনই অনাকাঙ্ক্ষিত এক নাটকীয়তা তৈরি হয়। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও ম্যাচের শেষ লগ্নে মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সি. মন্তেস একটি অহেতুক ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে বসেন। শেষ মুহূর্তে তিনি ঠিক কী করতে চেয়েছিলেন, তা বোধগম্য হয়নি। তবে সেই ধাক্কা ম্যাচের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে অনায়াসে উড়িয়ে দিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিল হাভিয়ের আগুইরের ছেলেরা।

এই দাপুটে জয়ের হাত ধরে আপাতত গ্রুপ-‘এ’-র শীর্ষস্থান দখল করল মেক্সিকো। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হিসেবে ভালো-মন্দ, গোল এবং লাল কার্ডের নাটকীয়তা মিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর সমাপ্তি ঘটল। তীব্র গরমে দুই দলের খেলোয়াড়দেরই বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল, তবে তার মধ্যেও ঘরের মাঠে এক স্মরণীয় জয় তুলে নিল মেক্সিকো। মেগা টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটি তো সফলভাবে শেষ হলো, এবার দেখার বিষয়— বাকি ১০৩টি ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আর কী কী চমক অপেক্ষা করছে!


