Narendra Modi
Bengal Liberty
১ থেকে ৩ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে(Narendra Modi) ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ভারতে তাঁর প্রথম সরকারি সফরে অংশ নেন। এই সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), প্রতিরক্ষা এবং ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগের বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এআই, সেমিকন্ডাক্টর এবং অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভারত ও জাপানের প্রতিরক্ষা খাতের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান।

ভারত-জাপান মজবুত সম্পর্ক(Narendra Modi)
নয়াদিল্লিতে যৌথ প্রেস বিবৃতির সময় নরেন্দ্র মোদি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ‘ছোট বোন’ বলে সম্বোধন করেন। পাল্টা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে সানায়ে তাকাইচিও ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ‘বড় ভাই’ (বা দাদা) বলে সম্বোধন করেন। ঐতিহাসিক এই শীর্ষ সম্মেলনটি এমন এক চমৎকার ও আন্তরিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে রইল। এর পাশাপাশি, ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও এক দীর্ঘ ফোনালাপ সম্পন্ন করেন নরেন্দ্র মোদি।

দুই রাষ্ট্রপ্রধানের কূটনৈতিক আলোচনা(Narendra Modi)
সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদি ও মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। সূত্র মারফত জানা গেছে, সেই আলোচনায় আঞ্চলিক শান্তি, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রাধান্য পেয়েছে। এই ফোনালাপের সময় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ইরান সফরের বিশেষ আমন্ত্রণও জানান।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক—সবকিছু নিয়েই তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ থেকে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট যে, নরেন্দ্র মোদি তাঁর দূরদর্শী কূটনৈতিক চাল দিয়েই সমস্ত আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করেন। একদিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভারত-জাপান শীর্ষ সম্মেলন পরিচালনা, আর ঠিক তারই মাঝে ইরানের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা—পুরো বিষয়টি যেন প্রাচীন ভারতের ‘চাণক্য নীতি’র কথাই মনে করিয়ে দেয়।
নরেন্দ্র মোদি ও চাণক্যের দর্শনে মিল(Narendra Modi)
নরেন্দ্র মোদি এবং প্রাচীন ভারতীয় কূটনীতিবিদ চাণক্যের (কৌটিল্য) চিন্তাধারার মধ্যে মূল মিলটি লক্ষ্য করা যায় রাষ্ট্র পরিচালনা, জাতীয় নিরাপত্তা, শক্তিশালী অর্থনীতি এবং কূটনীতির ক্ষেত্রে। এই দুই ব্যক্তিত্বের দর্শনের প্রধান মিলগুলো হলো কঠোর জাতীয়
নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষানীতি(Narendra Modi)
চাণক্যের ‘অর্থশাস্ত্র’-এ বহিঃশত্রুর মোকাবিলায় দৃঢ় পদক্ষেপ ও প্রতিরক্ষায় স্বনির্ভরতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মোদি সরকারও সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা বজায় রাখা, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতি গ্রহণ করে ঠিক এই দর্শনেরই প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
শক্তিশালী কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব(Narendra Modi)
চাণক্য একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসনের পক্ষে ছিলেন, যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান হবেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। মোদির শাসনেও কেন্দ্রে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর নেতৃত্ব দেখা যায়, যা দ্রুত নীতি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে অত্যন্ত সহায়ক।
কূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক(Narendra Modi)
চাণক্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদিও তাঁর ‘প্রতিবেশী প্রথম’ (Neighbourhood First) নীতি, ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ (Act East) পলিসি এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভূ-কৌশলগত অবস্থান সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একই দর্শনে পরিচালিত হচ্ছেন।

সাধারণত সমসাময়িক ভারতীয় রাজনীতিতে অমিত শাহকে ‘চাণক্য’ বলা হয়ে থাকে। তবে নরেন্দ্র মোদি যেভাবে অত্যন্ত জটিল বিদেশনীতিকে অত্যন্ত সহজ ও কার্যকরভাবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন, তা ভারতের সঠিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একটি অনন্য নজির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে চাণক্যের মতো এমন দূরদর্শী কূটনৈতিক চাল ও জটিল পরিস্থিতিকে সহজ করার ক্ষমতা আগে খুব কম প্রধানমন্ত্রীর মধ্যেই দেখা গেছে। আর এই কারণেই অনেকে তাঁকে আধুনিক ভারতের ‘কৌটিল্য’ হিসেবেও অভিহিত করছেন।


