CM Suvendu Adhikari
Bengal Liberty : রাজ্যের ৫০ হাজার সাফাই কর্মীর সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার (CM Suvendu Adhikari)। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরীক্ষামূলকভাবে ‘স্বচ্ছ কবচ’ কর্মসূচির সূচনা করেন। এই প্রকল্পের আওতায় সাফাই কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ সুরক্ষা কিট। কলকাতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পুরসভার প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও নগরোন্নয়ন সংস্থার আধিকারিকেরা ভার্চুয়াল মাধ্যমেও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সাফাই কর্মীদের রাজ্যের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার প্রধান কারিগর বলে উল্লেখ করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)।

৫০ হাজার সাফাই কর্মীর জন্য ‘স্বচ্ছ কবচ’ প্রকল্প (CM Suvendu Adhikari)
অনুষ্ঠানের শুরুতে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ‘স্বচ্ছ কবচ’ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা সাফাই কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এরপর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধুমাত্র প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং নাগরিক চেতনারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজ্যের শহর ও নগরাঞ্চলকে আরও পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের ওপরও জোর দেন তিনি।
‘স্বচ্ছ ভারত’ থেকে ‘স্বচ্ছতাতে স্বাগত’ (CM Suvendu Adhikari)
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি মনে করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিশেষ ভাবনার মধ্যে কতকগুলি বিষয় গোটা পৃথিবীতে সমাদৃত হয়েছে তার মধ্যে স্বচ্ছ ভারত অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।” এই ভাবনারই প্রতিফলন হিসেবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতা ও বিধাননগর পুরসভার যৌথ উদ্যোগে ‘স্বচ্ছতাতে স্বাগত’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী রেড রোডের ঐতিহাসিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন। তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন। শহরকে পরিষ্কার ও বাসযোগ্য রাখার ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

কংক্রিটের জঙ্গল, দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ (CM Suvendu Adhikari)
নিজের পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী শহরের পরিবেশগত অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বিচারে বৃক্ষছেদন, নাগরিক অসচেতনতা এবং দ্রুত কংক্রিটের জঙ্গল গড়ে ওঠার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি, শহরে ১৫ বছরের বেশি পুরনো যানবাহনের চলাচলের ওপর পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে শিশু, কিশোর এবং প্রবীণদের ওপর। বায়ুদূষণের কারণে চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বিশেষ করে শীতকালে বায়ুর গুণগত মান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে চিকিৎসকেরা অনেক সময় ‘মর্নিং ওয়াক’ করতেও নিষেধ করেন।
তিনি স্পষ্ট করে দেন, শিলিগুড়ি থেকে আসানসোল এবং দার্জিলিং থেকে দিঘা, রাজ্যের প্রতিটি শহরের উন্নয়ন হতে হবে বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ। ফ্লাইওভার, রোড ওভার ব্রিজ কিংবা আধুনিক পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি সমান গুরুত্ব দিতে হবে পরিচ্ছন্নতা, পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ এবং অরণ্য সৃষ্টির মাধ্যমে সবুজায়নকে। তাঁর বক্তব্য, পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষাকেই আগামী দিনের নগর উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার করতে হবে।

আরও পড়ুন :
Vocational Teachers: মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি বৃত্তিমূলক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের

