Baruipur Case
Bengal Liberty:
বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত (Baruipur Case)। এবার গোটা ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার দাবি করেছেন, কলকাতা হাই কোর্টের কোনো বর্তমান বিচারপতিকে দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করানো হোক।

নিরপেক্ষ তদন্ত চাইল কংগ্রেস
শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, ঘটনার সমস্ত তথ্য এখনও সামনে না এলেও একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলা জরুরি। তাঁর প্রশ্ন, অপরাধ পুনর্নির্মাণের (ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন) জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় এত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেও অভিযুক্ত কীভাবে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেল? পুলিশের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত গুলি চালানোর পর পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু এই ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত বলেই মনে করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, অভিযুক্তকে জীবিত রাখা হলে কোনো বড় চক্রের তথ্য সামনে আসত কি না। এলাকায় আরএসএস ও বিজেপির সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত বলে দাবি করেন শুভঙ্কর সরকার। তাঁর কথায়, নাবালিকার ওপর নৃশংস অত্যাচার যেমন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, তেমনই আইনের শাসনের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপও গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে, বারুইপুর-কাণ্ডের পর থেকেই কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুরু থেকেই নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়েছেন। তিনি নিজে বারুইপুরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং পুলিশ আধিকারিকদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। নবান্ন থেকেও নারী নির্যাতনের মামলায় দ্রুত এফআইআর, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে নতুন গাইডলাইন জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই আবহেই শুভঙ্কর সরকারের দাবি, রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঊর্ধ্বে উঠে গোটা ঘটনার সত্য সামনে আনতে আদালতের তত্ত্বাবধানে হাই কোর্টের একজন বর্তমান বিচারপতিকে দিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করানোই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ।

