Keshav Das
Bengal Liberty: বাঁশবেড়িয়ায় এক তৃণমূল নেতার কাছ থেকে তোলা চাওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। দশ লক্ষ টাকা না দিলে পচা ডিম মারার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে, সরাসরি বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পা জড়িয়ে কাঁদতে শুরু করলেন বাঁশবেড়িয়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর কেশব দাস।
ঘটনাটি ঠিক কী? (Keshav Das)
বৃহস্পতিবার হুগলিতে দলীয় কর্মসূচি ছিল বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। কোর কমিটির বৈঠক শেষে তিনি বেরোতেই হঠাৎ তাঁর সামনে এসে হাজির হন কেশব দাস। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক বিজেপি কর্মী দেবজিৎ মুখার্জি ওরফে রানা তাঁর কাছে দশ লক্ষ টাকা দাবি করেছে। টাকা না দিলে তাঁকে পচা ডিম মারা হবে এবং কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সভাপতিকে সামনে পেয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানাতেই এই কাণ্ড ঘটান ওই তৃণমূল নেতা। আচমকা এই ঘটনায় উপস্থিত বিজেপি নেতা ও কর্মীরা হতবাক হয়ে যান। পরে অবশ্য দ্রুত তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তৃণমূল নেতার দাবি (Keshav Das)
কেশবের স্ত্রী রীতা দাস বাঁশবেড়িয়ার কাউন্সিলর ছিলেন, যিনি সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন। প্রাক্তন এই কাউন্সিলরের অভিযোগ, দেবজিৎ মুখার্জি ওরফে রানা দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে ভয় দেখাচ্ছে এবং টাকা দাবি করছে। তিনি এই হুমকির জেরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেই দাবি করেছেন।

কী বলছে বিজেপি? (Keshav Das)
অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী দেবজিৎ মুখার্জি সপ্তগ্রামের বিধায়ক স্বরাজ ঘোষের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। বিষয়টি নিয়ে স্বরাজ ঘোষ বলেন, “তৃণমূল নেতাদের কথার ওপর ভরসা করা কঠিন। তবে কোনো বিজেপি কর্মী যদি সত্যিই টাকা চেয়ে থাকে এবং তার প্রমাণ মেলে, তবে দলগতভাবে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবার অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও আমরা খতিয়ে দেখব। আমি বিষয়টি নিয়ে জেলা সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি এবং পুরো ঘটনার তদন্ত করছি।”
বিজেপির জেলা অফিসে তৃণমূল নেতার এহেন কান্নাকাটি ও অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল। একদিকে তোলাবাজির অভিযোগ, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পাল্টা দাবি—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত বাঁশবেড়িয়ার পরিস্থিতি।

