Madrasa
Bengal Liberty
রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা(Madrasa) দফতরের উদ্যোগে একাধিক জেলার মাদ্রাসাগুলিতে বিশেষ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। পড়ুয়াদের বৃহত্তর কল্যাণ, সঠিক শিক্ষাগত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং সরকারি নীতি মেনে মাদ্রাসাগুলি পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই মূলত এই পদক্ষেপ। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সরকারি অনুমোদিত মাদ্রাসার পাশাপাশি রাজ্যের বেশ কিছু অনুমোদনহীন ও খারিজি মাদ্রাসার ওপর বিশেষ স্ক্রুটিনি চালানোর এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম নজরে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। গত ৮ই জুলাই রাজ্য সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে নবান্ন থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করে জেলাভিত্তিক আধিকারিকদের এই দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে।

মুর্শিদাবাদে কড়া নজরদারির নেপথ্যে গোয়েন্দা ইনপুট(Madrasa)
মুর্শিদাবাদ জেলাকে ঘিরে এই পরিদর্শনের বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, অতীতে বারবার বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী ও সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের একাধিক খারিজি মাদ্রাসার নাম জড়িয়েছে, উঠেছে গভীর যোগসূত্রের অভিযোগ। এমনকি শেষবার ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’ -এর মতো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের গ্রেপ্তারের ঘটনাতেও দেখা গিয়েছিল, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এই ধরণের খারিজি মাদ্রাসা পরিচালনার আড়ালে নিজেদের নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিল। এই সমস্ত অভিযোগ ও গোয়েন্দা ইনপুটের ওপর ভিত্তি করেই মুর্শিদাবাদ সহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলির অনুমোদনহীন মাদ্রাসাগুলির গতিবিধির ওপর এবার কড়া নজরদারি চালাতে চাইছে প্রশাসন।

পরিদর্শনে নামছেন শীর্ষ আধিকারিকরা(Madrasa)
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ জেলায় পরিদর্শনে যাবেন ডব্লিউবিসিএস (WBCS) পদমর্যাদার সিনিয়র ও জয়েন্ট সেক্রেটারি পদাধিকারীরা। তালিকায় থাকা জেলাগুলি হলো মুর্শিদাবাদ, মালদা, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর।
বীরভূম, নদীয়া, হুগলি ও হাওড়া।পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা।

এর মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় পরিদর্শনের মূল দায়িত্বে থাকছেন ডিরেক্টর অফ মাদ্রাসা এডুকেশন আবদুর রাকিব শেখ এবং ডিরেক্টরেটের সিনিয়র ল অফিসার শুভজিৎ লাহিড়ী। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই সমস্ত পরিদর্শক আধিকারিকদের সুবিধার্থে একজন করে স্থানীয় সহকারী অফিসার নিয়োগ করতে এবং তাঁদের যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করতে।
২১শে জুলাইয়ের মধ্যে নবান্নে গোপন রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ(Madrasa)
নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ই জুলাই, ২০২৬ তারিখের মধ্যে এই পরিদর্শন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। পরিদর্শন শেষে আগামী ২১শে জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নবান্নে তাঁদের গোপন ও বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে, পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তার দিকটি সুনিশ্চিত করতে সরকারের এই তৎপরতা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দূরদর্শী পদক্ষেপ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

