Indian Student
Bengal Liberty
ফের বিদেশের মাটিতে ভারতীয় পড়ুয়ার রহস্যজনক(Indian Student) মৃত্যুর ঘটনা সামনে এল। ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কির সমুদ্রে উদ্ধার হয়েছে হায়দরাবাদের বাসিন্দা, ১৮ বছর বয়সী মণিদীপ রেড্ডি গুজ্জার নিথর দেহ। গত ৫ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।
মণিদীপ ফিনল্যান্ডের এলইউটি (LUT) বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সফটওয়্যার অ্যান্ড সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং’ নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। ফিনিশ পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে এই মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক বা ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত মেলেনি। তবে পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ মণিদীপের পরিবার। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মর্মান্তিক পরিণতি(Indian Student)
গত দুই মাস ধরে চলা উদগ্রীব খোঁজাখুঁজির অবসান ঘটল এই মর্মান্তিক পরিণতির মাধ্যমে। ঘটনার দিন মণিদীপ তাঁর লাহতির বাসস্থান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হেলসিঙ্কির একটি শপিং মলে গিয়েছিলেন; তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। গত ৯ জুলাই হেলসিঙ্কির ক্রুনুভোরেনরান্তা (Kruunuvuorenranta) এলাকা সংলগ্ন সমুদ্র থেকে একটি মৃতদেহ উদ্ধার করে ফিনিশ পুলিশ।

দেহটির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পরিচয়পত্র, মায়ের ব্যাংক কার্ড এবং ভারতীয় মুদ্রা দেখে মণিদীপকে শনাক্ত করা হয়।
এই ছাত্রের নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তীকালে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকাহত পরিবার ও ফিনল্যান্ড প্রশাসনের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ফিনল্যান্ড সরকার তাঁদের সঙ্গে একেবারেই সহযোগিতা করছে না। এই অসহযোগিতাকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধছে নতুন বিতর্ক, উঠছে একাধিক প্রশ্নও।
তদন্ত ঘিরে একাধিক প্রশ্ন(Indian Student)
যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা(Indian Student)
পরিবারের আইনজীবীর দাবি, গত ২৯ মে-র পর থেকে ফিনল্যান্ড প্রশাসন তাঁদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তদন্ত কতদূর এগোল, সে বিষয়ে পরিবার সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছে।

অ্যাকাউন্টে রহস্যজনক কার্যকলাপ(Indian Student)
মণিদীপ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে কিছু অস্বাভাবিক কার্যকলাপ লক্ষ্য করেছে পরিবার। তাঁদের মতে, এই বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ভিসা জটিলতা(Indian Student)
নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে ফিনল্যান্ড যাওয়ার জন্য বারবার চেষ্টা করেছিলেন মণিদীপের বাবা-মা। কিন্তু পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণের অভাব (Lack of financial means) দেখিয়ে ফিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ তাঁদের ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। ফিনল্যান্ডে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস বর্তমানে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় পরিবারটিকে সহায়তা করছে। পাশাপাশি ফিনল্যান্ডের ‘জাতীয় তদন্ত ব্যুরো’ (NBI) মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, ফিনল্যান্ড সরকার বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখাচ্ছে। ১৮ বছর বয়সী এই তরুণের অকালমৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার। নেটপাড়াতেও এখন জোরালো হচ্ছে একটাই দাবি— ‘জাস্টিস ফর মণিদীপ’।

