Kamarpukur
Bengal Liberty : রথযাত্রার পবিত্র তিথিতে বাংলার মাটি ও মানুষের চিরাচরিত কৃষি উৎসবের সাক্ষী থাকল কামারপুকুর (Kamarpukur)। যুগ যুগ ধরে চলে আসা প্রথা মেনে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের স্মৃতিবিজড়িত ‘লক্ষ্মীজলা’য় ধান রোপণের মাধ্যমে সূচনা হলো কৃষিকাজের। প্রতি বছরের মতো এবছরও রথের দিন কামারপুকুরের লক্ষীজোলায় ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণদেবের স্মৃতি বিজড়িত জমিতে ধান রোপনের কাজ শুরু করলেন মহারাজরা। একদা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়ের হাতের ছোঁয়ায় যে ভূমিতে ফসলের স্বপ্ন বুনত, এদিনও মঠের মহারাজ ও সাধু-সন্ন্যাসীদের অংশগ্রহণে সেই পুণ্যভূমি আবারও প্রাণ ফিরে পেল। ১৯৫১ সালে কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখানে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়ে আসছে (Kamarpukur)।

ক্ষুদিরাম ও লক্ষ্মীজলার ইতিহাস (Kamarpukur)
কামারপুকুরের এই ‘লক্ষ্মীজলা’র সঙ্গে জড়িয়ে আছে শ্রীরামকৃষ্ণের পরিবার ও তাঁদের জীবন সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাস। জানা যায়, শ্রীরামকৃষ্ণের পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় যখন নিজের আদি নিবাস ত্যাগ করে কামারপুকুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন, তখন তাঁর বন্ধু সুখলাল গোস্বামী তাঁকে প্রায় দু’বিঘা জমি দান করেছিলেন, যা কালক্রমে ‘লক্ষ্মীজলা’ নামে পরিচিত হয়। ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় প্রতি বছর রথযাত্রার শুভলগ্নে তাঁর আরাধ্য দেবতা রঘুবীরের নাম স্মরণ করে নিজ হাতে সেই জমিতে ধান রোপণ করতেন। এই ফসলের ওপর ভিত্তি করেই চলত গদাধরের পরিবারের সারা বছরের জীবিকা। ক্ষুদিরামের তিরোধানের পরেও দশকের পর দশক ধরে এই ঐতিহ্য অমলিন থেকে গেছে।

মহারাজদের হাতে কৃষিকাজের সূচনা (Kamarpukur)
সেই প্রাচীন প্রথা ও ত্যাগের আদর্শকে আজও সযত্নে বাঁচিয়ে রেখেছেন কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠের সাধু-সন্ন্যাসীরা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রথযাত্রার দিন সকালে মঠের অধ্যক্ষ স্বামী লোকোত্তরানন্দজি মহারাজ এবং অন্যান্য সন্ন্যাসীরা সাড়ম্বরে লক্ষ্মীজলায় ধান রোপণের কাজে অংশ নেন। মহারাজ জানান প্রায় পঞ্চাশ বিঘা জমি মঠের তরফ থেকে চাষ করা হয়, তার সূচনা হয়েছিল ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে, বর্তমানে তার ঐতিহ্য বজায় রাখছেন তাঁরা। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। মঠের এই উদ্যোগ স্থানীয় জনসমাজে যেমন গ্রামীণ ঐতিহ্যের বার্তা বহন করে, তেমনি শ্রীরামকৃষ্ণ ও তাঁর পরিবারের স্মৃতিকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জীবন্ত করে রাখে।

আরও পড়ুন :
Digha Rath Yatra: দিঘায় রথযাত্রা: আমূল বদল পোশাকে ও রথে, রশি টানবেন সাধারণ মানুষ

