Ram Mandir
Bengal Liberty : অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য (Ayodhya Ram Mandir)। অন্যতম অভিযুক্তের বাড়ি থেকে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি উদ্ধারের পর তদন্তে নতুন গতি এসেছে বলে দাবি পুলিশের। সেই সঙ্গে রামমন্দির ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ স্বামী গোবিন্দ দেব গিরি মহারাজকে ঘিরেও বেড়েছে প্রশ্ন। অনুদানের অর্থ কেলেঙ্কারি, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং আর্থিক লেনদেনের জাল খুঁজে বের করতে এবার তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে প্রায় ১৪০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (Ayodhya Ram Mandir)।

তদন্তে উদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ নথি (Ayodhya Ram Mandir)
আদালতের নির্দেশে পুলিশি হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত রমাশঙ্কর মিশ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই তাঁর ভাড়া বাড়িতে তল্লাশি চালায় তদন্তকারী দল। সেখান থেকে জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি, আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্র-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই নথিগুলি অনুদানের অর্থ কীভাবে সরানো হয়েছে, কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং কার কার কাছে পৌঁছেছে, সেই রহস্যের জট খুলতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। উদ্ধার হওয়া সমস্ত নথি ফরেনসিক ও আর্থিক বিশেষজ্ঞদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের সম্পত্তি কেনাবেচা, ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং বিনিয়োগের সঙ্গে ওই নথির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, অর্থের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে এই নথি থেকেই।

দায় অস্বীকার কোষাধ্যক্ষের (Ayodhya Ram Mandir)
বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত রমাশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু দীর্ঘদিন কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই মন্দিরের অনুদান বাক্সের চাবির নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। তদন্তকারীদের অনুমান, এই প্রশাসনিক গাফিলতির সুযোগ নিয়েই অনুদানের নগদ অর্থ, দামী সামগ্রী ও মূল্যবান দান আত্মসাৎ করা হয়েছে। এদিকে, তদন্তের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন রামমন্দির ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ স্বামী গোবিন্দ দেব গিরি মহারাজ। যদিও তাঁর ইস্তফার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তাঁর ব্যক্তিগত কোনও ভূমিকা নেই। তাঁর দাবি, অনুদানের বাক্স পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) কর্মীদের যথাযথ নজরদারির অভাবেই এই ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মন্দিরের সোনা-রূপোর অলঙ্কার চুরির খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং সমস্ত মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদেই রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নজরেও মামলা (Ayodhya Ram Mandir)
এর আগেই এই মামলায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ নগদ অর্থ, সোনার গয়না এবং একটি গাড়ি উদ্ধার করেছিল। বর্তমানে অভিযুক্ত ও তাঁদের আত্মীয়দের প্রায় ৫০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই গোটা চক্রের বিস্তার সামনে আসতে পারে।
তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়ে ট্রাস্টের সদস্য, পুরোহিত, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কর্মী-সহ মোট প্রায় ১৪০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের সম্পত্তি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী দল।
এদিকে, এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র ও উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নোটিস জারি করেছে। আদালতের নজরদারিতে স্বাধীন তদন্তের আবেদনও বিবেচনাধীন। ফলে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে, এই অনুদান কেলেঙ্কারির নেপথ্যে কি শুধুই কয়েকজন কর্মী, নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও বড় কোনও প্রভাবশালী চক্র? সেই উত্তর খুঁজতেই এখন জোরদার হয়েছে SIT-এর তদন্ত। আর এবার বিশেষ তদন্তকারী দলের নজরে কোষাধ্যক্ষ।

আরও পড়ুন :
Ram Mandir Scam : রাম মন্দিরে বড় কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস! মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে খেলার অভিযোগ

