Bengal Liberty : ১৯৮৩ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক স্তরে ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। এ বার সেই বামফ্রন্টেরই বরানগর শাখার একটি স্মারকলিপির ইংরেজি লেখা নিয়ে শুরু হয়েছে কটাক্ষ। বরানগর পুরসভার চেয়ারপার্সনের কাছে নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে জমা দেওয়া চিঠিতে একাধিক বানান ও ব্যাকরণগত ভুলের অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, মাত্র কয়েকটি লাইনের আবেদনপত্রেই ন’টি ভুল করেছেন বামফ্রন্টের নেতৃত্ব।
৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে লেখা ওই চিঠিতে বরানগরের নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে পুর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু সেই আবেদনপত্রের ইংরেজি বাক্যগঠন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। তাঁদের দাবি, একটি সাধারণ প্রশাসনিক চিঠি লেখার ক্ষেত্রেও একাধিক প্রাথমিক ভুল চোখে পড়ছে।
চিঠির ভুলগুলি তুলে ধরে সমালোচকদের বক্তব্য, “On behalf of” লেখার পরিবর্তে লেখা হয়েছে “One behalf of”। একই ভাবে, “the Citizen of Baranagar” শব্দবন্ধের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নাগরিকদের সমস্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে “attention on” লেখা হয়েছে, যেখানে সঠিক প্রয়োগ “attention to”। আবার “faced by people of Baranagar”-এর পরিবর্তে “faced by the people of Baranagar” লেখা উচিত ছিল।
আরও খবর
শুধু তা-ই নয়, “Requesting kindly go through” না লিখে “We request you to kindly go through” লেখা উচিত ছিল বলে মত সমালোচকদের। সংযুক্ত স্মারকলিপির বক্তব্য বোঝাতে “which speaks itself”-এর পরিবর্তে সঠিক বাক্যাংশ “which speaks for itself”। পাশাপাশি, বাক্যগঠন অনুযায়ী “and self-explanatory”-এর পরিবর্তে “and is self-explanatory” ব্যবহার করা উচিত ছিল। চিঠির শেষাংশে “Awaiting you early response” না লিখে “Awaiting your early response” লেখা প্রয়োজন ছিল। এ ছাড়াও, বরানগরের নামের বানান “Baranagaar”-এর পরিবর্তে “Baranagar” হওয়া উচিত।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বামফ্রন্টের অতীত শিক্ষানীতি নিয়েও রাজনৈতিক কটাক্ষ শুরু হয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, যে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে প্রাথমিক স্তরে ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন তুলে দেওয়া হয়েছিল, সেই দলের বর্তমান নেতৃত্বের একটি চিঠিতেই ইংরেজির একাধিক ভুল ধরা পড়ছে। অতীতের শিক্ষানীতি নিয়ে বামফ্রন্টের অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের চিঠিতে ইংরেজির এই ভুলগুলিকে মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে কটাক্ষ করা হচ্ছে।
নাগরিকদের সমস্যা নিয়ে পুরসভার কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপির ভাষা ও ব্যাকরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বরানগরের এই চিঠি এখন রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।


